জামালপুরের সরিষাবাড়ীতে জমি সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে হামলায় আহত এক ভিক্ষুক পরিবারকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আটক করে জেল হাজতে প্রেরণের ঘটনায় পুলিশের চারজন এসআই বরখাস্ত ও দুই পুলিশ কনস্টেবলকে ক্লোজড করা হয়েছে। গত মঙ্গলবার রাতে ওই পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে এ ব্যবস্থা নেয়া হয়।
স্থানীয়রা জানায়,সরিষাবাড়ী পৌরসভার বাউসি বাজার এলাকার মৃত মহির উদ্দিনের ছেলে ভিক্ষুক আব্দুল জলিল(৬৪) তার ২০ শতক জমির উপর বসতভিটা তৈরী করে দীর্ঘদিন ধরে বসবাস করে আসছেন। সম্প্রতি মুজিবুর রহমান নামে এক ব্যক্তি ওই জমিটি তার নিজের বলে দাবি করায় দু’পক্ষের মধ্যে বিরোধ সৃষ্টি হয়। এ ঘটনায় আদালতে মামলা হলে আদালত আব্দুল জলিলের পক্ষে রায় দেয়। আদালতের আদেশ অমান্য করে গত সোমবার সকালে মুজিবুর রহমান দলবল নিয়ে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে আব্দুল জলিলের পরিবারের ওপর হামলা চালায়। তাদের হামলায় গুরুতর আহত আহত হন ভিক্ষুক আব্দুল জলিল (৬৪), তার স্ত্রী লাইলী বেগম (৫০) ও তার তিন ছেলে আবু বক্কর সিদ্দিক (৩০), ওয়ায়েজ করোনি(২৫) ও হামদাদুল হক(১৬)। পরে তাদেরকে সরিষাবাড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়।
এদিকে হামলার পর মুজিবুর রহমান বাদি হয়ে চিকিৎসাধীন ৪ জনসহ ১৫ জনকে আসামী করে উল্টো সরিষাবাড়ী থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। মামলার পর গত মঙ্গলবার পুলিশ হাসপাতালে ঢুকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় এজাহারভূক্ত আহত ওই ৪ আসামীদের আটক করেন। এসময় চিকিৎসাধীন ওই চার আসামী পুলিশের সঙ্গে যেতে রাজি না হওয়ায় হাসপাতালের শয্যা থেকে তাদেরকে টেনে হেঁচড়ে থানায় নিয়ে আসে। পরে কিছু সময় তাদের থানাহাজতে রেখে বিকেলে আদালতে সোপর্দ করা হয়। এদিকে আব্দুল জলিলের স্বজনেরা অভিযোগ করে বলেন, সোমবার রাতে আব্দুল জলিল থানায় অভিযোগ দিতে গেলে পুলিশ উল্টো আব্দুল জলিলকে থানায় আটকে রাখে। পরে সেখানে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাকে দ্রুত হাসপাতালে ভর্তি কর। রাতে উল্টো ঐ ভিক্ষুক পরিবারের উপর হামলা হয়। সরিষাবাড়ী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মীর রকিবুল হক বলেন, মুজিবুর রহমান বাদী হয়ে সোমবার রাতে আব্দুল জলিলসহ বেশ কয়েকজনকে আসামী করে থানায় মামলা দায়ের করেন। এরপর হাসপাতালে অভিযান চালিয়ে তাদেরকে আটক করা হয়। তিনি বলেন, হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র দেওয়ায় পরই তাদেরকে আটক করা হয়। জামালপুরের পুলিশ সুপার নাছির উদ্দিন আহমেদ বলেন, বিষয়টি জানতে পেয়ে আমি তাৎক্ষণিক তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহন করেছি। এ ঘটনায় ইতিমধ্যেই চার এসআই বরখাস্ত ও দুই পলিশ সদস্য ক্লোজড করা হয়েছে বলে তিনি জানান।









