জলবায়ু পরিবর্তনে বৈশ্বিক উষ্ণতা বৃদ্ধির কারণে মেরু অঞ্চলের বরফগলন ত্বরান্বিত হচ্ছে। এতে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা দিন দিন বেড়ে যাওয়ায় বাংলাদেশের উপকূলীয় অঞ্চলে ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাস ও লবণাক্ততা উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। এসব সমস্যা মোকাবিলায় জাতীয় বাজেটে উপকূলীয় অঞ্চলের জন্য বিশেষ বরাদ্দের প্রয়োজন।
গতকাল সোমবার সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসন চত্ত্বরে সকাল সাড়ে ১০টায় বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা লিডার্সের সহযোগিতায় জেলা জলবায়ু অধিপরামর্শ ফোরাম আয়োজিত মানববন্ধন ও সমাবেশে এই দাবি জানান বক্তারা।
সাতক্ষীরা নাগরিক কমিটির আহ্বায়ক ও জেলা জলবায়ু অধিপরামর্শ ফোরামের সদস্য মোঃ আনিছুর রহিমের সভাপতিত্বে বক্তৃতা করেন ফোরামের সদস্য সচিব মাধব চন্দ্র দত্ত্ব, আবুল কালাম আজাদ, আলী নূর খান বাবলু, এ্যাড. ফাহিমুল হক কিসলু, শেখ আফজাল হোসেন, ফরিদা আক্তার বিউটি, খুরশীদ জাহান শীলা, মোহন্ত কুমার হালদার, এস. এম রাজু জবেদ প্রমুখ।
উপকূলীয় আশাশুনি, শ্যামনগর উপজেলার নারীরা সুপেয় পানির দাবিতে কলস নিয়ে উক্ত মানববন্ধন ও সমাবেশে হাজির হন।
বক্তারা বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতিকর প্রভাব মোকাবিলায় অভিযোজন প্রক্রিয়া বাড়াতে হবে। আগামীতে সরকারের প্রকল্প গ্রহণের ক্ষেত্রে দুর্যোগের ঝুঁকিতে থাকা উপকূলের মানুষের স্বার্থকে প্রাধান্য দিতে হবে। ৬০ এর দশকের বাঁধের পরিকল্পনা আজ দক্ষিণ-পশ্চিম উপকূলের মানুষের গলার ফাঁস। ঘূর্ণিঝড় ও উচ্চ জোয়ারের চাপে বেড়িবাঁধ ভেঙে বার বার মানুষ তার সহায় সম্বল হারাচ্ছেন এবং মানবেতর জীবন যাপন করছেন। এজন্য জলবায়ু পরিবর্তন ও দুর্যোগের অভিঘাত মোকাবেলায় স্থায়ী ও মজবুত বেড়িবাঁধ পুন:নির্মান করতে হবে।
তারা বলেন, সরকার টেকসই বেড়ীবাঁধ নির্মাণের দুটি মেগা প্রকল্প হাতে নিলেও এখনো বাস্তবায়নের কাজ শুরু হয়নি। জনস্বার্থে দ্রুত প্রকল্পের বাস্তবায়ন কাজ শুরু করতে হবে। উপকূলের টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণ ও জীবন-জীবিকা রক্ষায় সরকারের নেওয়া অন্যান্য প্রকল্পগুলো দ্রুত অনুমোদন দিতে হবে। সরকারের উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে সমন্বয় এবং স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার আহ্বান জানান তারা।
খাবার পানি নিয়ে তারা বলেন, উপকূলের মানুষের খাবার পানির তীব্র সংকট। একজন নারীকে প্রতিদিন ৪/৫ কিলোমিটার পায়ে হেঁটে পানি সংগ্রহ করতে হয়।
উপকূলের সার্বিক উন্নয়নে ২০২২/২০২৩ অর্থবছরে জাতীয় বাজেটে বিশেষ বরাদ্দের দাবী জানানো হয়। একই সঙ্গে উপকূলের মানুষের জীবন জীবিকা সুরক্ষায় বিশেষ অর্থনৈতিক উন্নয়ন পরিকল্পনা গ্রহণের দাবি জানানো হয়।









