মানবতার জন্য যুদ্ধ হওয়া উচিৎ: অর্থমন্ত্রী
- ১২ প্রকল্পে ১৪৫২ কোটি টাকার অনুমোদন
- জিওবি হতে ব্যয় ৬০০ কোটি টাকা
- দেশীয়-বিশ্বব্যাংকের ঋণ ৮৫১ কোটি টাকা
দেশের অর্থনীতিতে আপাতত রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ তেমন কোন প্রভাব ফেলবে না। রাশিয়ার সঙ্গে বাংলাদেশের যে বাণিজ্য চলমান তা সম্ভব না হলে অন্য দেশ থেকে মেটানো হবে বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল এফসিএ, এমপি।
গতকাল বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে অর্থনৈতিক বিষয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির ৬ষ্ঠ এবং সরকারি ক্রয়-সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির ৮ম সভা শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।
এদিন অর্থমন্ত্রীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় মোট ১২টি প্রস্তাব অনুমোদন দেয়া হয়েছে। তাতে মোট অর্থের পরিমাণ ১ হাজার ৪৫২ কোটি ৬৪ হাজার ৩৭৮ টাকা। অর্থায়নের মধ্যে গভার্নমেন্ট অব বাংলাদেশ (জিওবি) হতে ব্যয় হবে ৬০০ কোটি ৭ লাখ ২০ হাজার ৫১১ টাকা এবং দেশিয় ব্যাংক ও বিশ্বব্যাংক ঋণ ৮৫১ কোটি ৯৩ লাখ ৪৩ হাজার ৮৬৭ টাকা।
মুস্তফা কামাল জানান, অর্থনৈতিক কমিটির অনুমোদনের জন্য ১টি এবং সরকারি ক্রয় কমিটির অনুমোদনের জন্য ১১টি প্রস্তাব উত্থাপন করা হয়। সরকারি ক্রয়-সংক্রান্ত প্রস্তাবনাগুলোর মধ্যে পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের ২টি, গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের ২টি, খাদ্য মন্ত্রণালয়ের ২টি, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের ২টি, পরিসংখ্যান ও তথ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগের ১টি, শিল্প মন্ত্রণালয়ের ১টি এবং কৃষি মন্ত্রণালয়ের ১টি প্রস্তাবনা ছিল।
অর্থমন্ত্রী বলেন, রাশিয়ার সঙ্গে আমাদের যে ব্যবসা-বাণিজ্য আছে তা যদি যুদ্ধের কারণে বাধার সম্মুখীন হয় তবে অন্য দেশ থেকে আপাতত সমাধান করা হবে। তবে মানবতার কল্যাণে এই যুদ্ধ বন্ধ হওয়া দরকার। অর্থমন্ত্রী বলেন, আমরা যুদ্ধ নয়, শান্তি চাই। আলোচনার মাধ্যমে দুই দেশ সমস্যা সমাধান করুক। আর আমাদের কামনা হচ্ছে দ্রুত যুদ্ধটি সমাপ্ত হোক।
মুস্তফা কামাল বলেন, যুদ্ধের কারণে পদ্ধতিগতভাবে ব্যবসায়ে কোন সমস্যা হতেই পারে। সেটি বিবেচনা করে সমন্বয় করতে হবে। নিত্যপণ্যের মূল্য বৃদ্ধির বিষয়ে তিনি বলেন, সরকার ও ভোক্তা উভয়ের ক্ষেত্রেই ব্যয় ভাগ করা হয়ে থাকে। আমাদের প্রতিটি মন্ত্রণালয়েই প্রচুর ভর্তুকি দিতে হয়। এটি একা সরকারের পক্ষে দেয়া সম্ভব হয় না। সেক্ষেত্রে সরকার কিছু দেয় আর ভোক্তাও কিছু দিয়ে থাকে।
অর্থমন্ত্রী বলেন, অর্থনৈতিক বিষয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির সভায় অনুমোদিত প্রস্তাবটি হলো: নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের অধীন পায়রা বন্দর কর্তৃপক্ষের ‘পায়রা বন্দরের রাবনাবাদ চ্যানেলের ক্যাপিটাল ও মেইন্টেনেন্স ড্রেজিং’ স্কিমের আওতায় পরামর্শক প্রতিষ্ঠান নিয়োগের মূল্যায়নে কারিগরি ও আর্থিক নম্বর যথাক্রমে ৯০ ও ও ১০ শতাংশ নির্ধারণে ভূতাপেক্ষ অনুমোদন।
সরকারি ক্রয়-সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির সভায় অনুমোদিত প্রস্তাবসমূহ হলো-
প্রথম প্রস্তাবনা: পরিসংখ্যান ও তথ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগের অধীন বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো কর্তৃক ট্যাবলেট ফর সিএপিআই ফর মেইন সেন্সাস প্যাকেজে ৩ লাখ ৯৫ হাজার ট্যাবলেট ওয়াল্টন ডিজি-টেক ইনড্রাস্টিয়াল লিমিটেডের নিকট থেকে ৪৪৭ কোটি ৭৭ লাখ ৭৭ হাজার ৬৭০ টাকায় ক্রয়ের অনুমোদন দেয়া হয়েছে।
২নং প্রস্তাবনা: শিল্প মন্ত্রণালয়ের অধীন বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ কর্পোরেশন (বিসিআইসি) কর্তৃক ৩০ হাজার মেট্রিক টন ব্যাগড গ্র্যানুলার ইউরিয়া সার কাফকো, বাংলাদেশ হতে ১৪৪ কোটি ৫৬ লাখ ৪০ হাজার টাকায় ক্রয়ের অনুমোদন।
৩নং প্রস্তাবনা: কৃষি মন্ত্রণালয়ের অধীন বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশন (বিএডিসি) কর্তৃক জেএসসি ফরেন ইকোনোমিক করপোরেশন (প্রদিনটর্গ) রাশিয়া হতে ৩য় লটে ৩০ হাজার (+১০%) মে. টন এমওপি সার ১৫০ কোটি ২১ লাখ ২৩ হাজার ২২০ টাকায় আমদানির অনুমোদন।
৪নং প্রস্তাবনা: পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের অধীন বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড কর্তৃক “বুড়িগঙ্গা নদী (নিউ ধলেশ্বরী-পুংলি-বংশাই-তুরাগ-বুড়িগঙ্গা রিভার সিস্টেম) পুনরুদ্ধার (২য় সংশোধিত)” প্রকল্পের লট-৩ এর পূর্ত কাজের ভেরিয়েশন বাবদ অতিরিক্ত ২২ কোটি ৭০ লাখ ১৯ হাজার ৬৯৮ টাকা ব্যয় বৃদ্ধির ক্রয় প্রস্তাব জয়েন ভেঞ্চার অফ (১) এলএ এবং (২) টিটিএসএল, ঢাকাকে অনুমোদন।
৫নং প্রস্তাবনা: পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের অধীন বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড কর্তৃক “বুড়িগঙ্গা নদী (নিউ ধলেশ্বরী-পুংলি-বংশাই-তুরাগ-বুড়িগঙ্গা রিভার সিস্টেম) পুনরুদ্ধার (২য় সংশোধিত)” প্রকল্পের লট-৪ এর পূর্ত কাজের ভেরিয়েশন বাবদ অতিরিক্ত ২৬ কোটি ৭০ লাখ ১৩ হাজার ২০১ টাকা ব্যয় বৃদ্ধির ক্রয় প্রস্তাব জয়েন ভেঞ্চার অফ (১) কেএসএ এবং (২) এলএ, ঢাকাকে অনুমোদন।
৬নং প্রস্তাবনা: গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের অধীন গণপূর্ত অধিদপ্তর কর্তৃক নুরানি কন্সট্রাকশন লি. এর নিকট থেকে ৫ কোটি ৫২ লাখ ৯২ হাজার ৪৮৮ টাকায় প্রকল্পের প্যাকেজ নং পূর্ত-১(ই)-এর আওতায় পণ্য সরবরাহ এবং স্থাপন কাজ ক্রয়ের অনুমোদন।
৭নং প্রস্তাবনা: গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের অধীন গণপূর্ত অধিদপ্তর কর্তৃক নুরানি কন্সট্রাকশন লি. এর নিকট থেকে ৩ কোটি ৫৩ লাখ ৫২ হাজার ২৪৩ টাকায় প্রকল্পের প্যাকেজ নং পূর্ত-১(ডি)-এর আওতায় পণ্য সরবরাহ এবং স্থাপন কাজ ক্রয়ের অনুমোদন।
৮প্রস্তাবনা: খাদ্য মন্ত্রণালয়ের অধীন খাদ্য অধিদপ্তর কর্তৃক মডার্ন ফুড স্টোরেজ ফেসিলিটিজ প্রোজেক্ট (এমএফএসপি) প্রকল্পের প্যাকেজ নং-ডব্লিউ-২৪ এর আওতায় চট্টগ্রামে ১টি স্টিল সিলো ফর হোসেট স্থাপনে জয়েন ভেঞ্চার অফ (১) কনফিডেন্স ইনফ্রাস্টাসস্ট্রাকচার লি. বাংলাদেশ এবং (২) দ্যা জিএসআই গ্রুপ এলএলসি, ইউএসএ’র নিকট থেকে ৫৩৭ কোটি ৫৭ লাখ ৬৩ হাজার ৭৩৪ টাকায় ক্রয়ের প্রস্তাব অনুমোদন।
৯নং প্রস্তাবনা: খাদ্য মন্ত্রণালয়ের অধীন খাদ্য অধিদপ্তর কর্তৃক মডার্ন ফুড স্টোরেজ ফেসিলিটিজ প্রোজেক্ট (এমএফএসপি) প্রকল্পের আওতায় ইন্ট্রিগ্রেটেড ফুড পলিসি রিসার্চ প্রোগ্রাম কাজে পরামর্শক প্রতিষ্ঠান হিসেবে জয়েন ভেঞ্জার অফ (১) ইন্টারন্যাশনাল ফুড পলিসি রিসার্চ ইন্সট্রিটিউট; (২) ইউনিভার্সিটি অব ইলিয়নিস এট আরবান ক্যাম্পেইন; এবং (৩) বাংলাদেশ ইন্সটিটিউট অব ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজকে ভেরিয়েশন বাবদ অতিরিক্ত ১৯ কোটি ৫৮ লাখ ১৬ হাজার ৯১৩ টাকা ব্যয় বৃদ্ধির ক্রয় প্রস্তাব অনুমোদন।
১০নং প্রস্তাবান: জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের অধীন বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন (বিপিসি) কর্তৃক “জেট এ-১ পাইপলাইন ফ্রম পিতলগঞ্জ (নিয়ার কাঞ্চন ব্রিজ) টু কুর্মিটোলা এভিয়েশন ডিপো ইনক্লুডিং পাম্পিং ফ্যাসিলিটিজ” প্রকল্পে পরামর্শক প্রতিষ্ঠান (পিএমসি) জয়েন্ট ভেঞ্চার অব (১) ডর্স হোল্ডিং জিএমনিএইচ, জার্মানি এবং (২) ডর্স কনসাল্টেন্ট (ইন্ডিয়া) প্রা.লি. কে ভেরিয়েশন বাবদ অতিরিক্ত ৯ কোটি ৬৯ লাখ ৩৭ হাজার ৬৩৫ টাকা ব্যয় বৃদ্ধির ক্রয় প্রস্তাব অনুমোদন।
১১ নং প্রস্তাবনা: জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের অধীন বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন (বিপিসি) কর্তৃক “জেট এ-১ পাইপলাইন ফ্রম পিতলগঞ্জ (নিয়ার কাঞ্চন ব্রিজ) টু কুর্মিটোলা এভিয়েশন ডিপো ইনক্লুডিং পাম্পিং ফ্যাসিলিটিজ” প্রকল্পে ইপিসি ঠিকাদার বাংলাদেশ নৌ-বাহিনীর অঙ্গ প্রতিষ্ঠান নৌ-কল্যাণ ফাউন্ডেশন ট্রেডিং কোম্পানি লি.কে ভেরিয়েশন বাবদ অতিরিক্ত ৮৪ কোটি ১৩ লাখ ২৭ হাজার ৫৭৬ টাকা ব্যয় বৃদ্ধির ক্রয় প্রস্তাব অনুমোদন দেয়া হয়েছে। অর্থমন্ত্রীর বক্তব্য শেষে মন্ত্রিসভার অতিরিক্ত সচিব মো. জিল্লুর রহমান বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেন।









