বিশ্ববাজারে আবারও বাড়তির পথে স্বর্ণের দাম। ডলারের কিছুটা দুর্বলতার সুযোগে বিনিয়োগকারীরা নতুন করে স্বর্ণে আগ্রহ দেখাচ্ছেন, যার ফলে মূল্যবান এই ধাতুর দামে ঊর্ধ্বগতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে।
বাংলাদেশ সময় শুক্রবার (২৭ মার্চ) দুপুর ১২টা ৩৭ মিনিটে আন্তর্জাতিক স্পট মার্কেটে প্রতি আউন্স স্বর্ণের দাম বেড়ে দাঁড়ায় ৪,৪৬৬.৩৮ ডলারে। তবে চলতি সপ্তাহের হিসাবে এখনো প্রায় ০.৫ শতাংশ কম অবস্থানেই রয়েছে দাম। অন্যদিকে, এপ্রিল ডেলিভারির জন্য যুক্তরাষ্ট্রের স্বর্ণ ফিউচারস ১.৯ শতাংশ বেড়ে ৪,৪৬১ ডলারে লেনদেন হচ্ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার মধ্যে স্বর্ণ আবারও নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে গুরুত্ব পাচ্ছে। গত কয়েক সপ্তাহে বাজারের অস্থিরতার কারণে অনেক বিনিয়োগকারী স্বর্ণ বিক্রি করলেও বর্তমান দামে এটি আবার আকর্ষণীয় হয়ে উঠেছে।
তারা আরও বলেন, জ্বালানি তেলের উচ্চমূল্যের কারণে দীর্ঘমেয়াদি মূল্যস্ফীতি নিয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলো সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। এ পরিস্থিতি না থাকলে স্বর্ণের দাম আরও দ্রুত বাড়তে পারত।
উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র, ইসরাইল ও ইরানের মধ্যে সংঘাত শুরু হওয়ার পর থেকে স্বর্ণের দাম প্রায় ১৬ শতাংশ কমে গিয়েছিল। তবে সাম্প্রতিক সময়ে বাজারে আবার ইতিবাচক প্রবণতা দেখা যাচ্ছে।
শুধু স্বর্ণ নয়, অন্যান্য মূল্যবান ধাতুতেও দাম বেড়েছে। রুপার দাম ৩.১ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ৭০.১০ ডলারে, প্লাটিনাম ৩.৫ শতাংশ বেড়ে ১,৮৯১.০২ ডলারে এবং প্যালাডিয়াম ৩.৩ শতাংশ বেড়ে ১,৩৯৮.৩০ ডলারে পৌঁছেছে।
এদিকে দেশের বাজারেও স্বর্ণের দাম এখনো উচ্চ অবস্থানে রয়েছে। প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) ২২ ক্যারেট স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২,৩৪,৮৫৫ টাকা। ২১ ক্যারেট ২,২৪,১৮২ টাকা, ১৮ ক্যারেট ১,৯২,১৬৪ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির স্বর্ণ বিক্রি হচ্ছে ১,৫৬,৪৭৩ টাকায়।
সব মিলিয়ে, বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দামে নতুন করে ঊর্ধ্বগতি দেখা গেলেও ভবিষ্যতের প্রবণতা নির্ভর করবে বৈশ্বিক অর্থনীতি, জ্বালানি বাজার এবং মুদ্রানীতির ওপর।









