“বিশ বছর আগে মাত্র ২০ হাজার টাকা নিয়ে ব্যবসা শুরু করেছিলাম। তিল তিল করে জমিয়ে তোলা ১৫ লাখ টাকার সম্পদ আজ চোখের সামনে ধ্বংস হয়ে গেল।” কুষ্টিয়ার কুমারখালীর চৌরঙ্গী বাজারের ভস্মীভূত দোকানের সামনে দাঁড়িয়ে এভাবেই বুকফাটা আর্তনাদ করছিলেন ৫০ বছরের ব্যবসায়ী গোলাম মোস্তফা।
শনিবার (২৮ মার্চ) দুপুরে ঘটনার পর মোস্তফা পরিস্থিতি বর্ণনা করতে গিয়ে জানান, ২০ বছরের হাড়ভাঙা পরিশ্রমে গড়া তার ব্যবসা মাত্র কয়েক মিনিটের মধ্যে আগুনে ধ্বংস হয়ে গেছে। এনায়েতপুর-বাঁশগ্রাম সড়কের চৌরঙ্গী বাজারে তার ইলেকট্রনিক পণ্যের দোকান ছিল, যা প্রতিদিনের মতো রাতের কাজ শেষে বন্ধ করে বাড়ি ফিরেছিলেন। কিন্তু রাত ৩টার দিকে নৈশপ্রহরীর ফোনে তিনি জানতে পারেন, আগুন লেগেছে তার দোকানে।
মোস্তফা বলেন, “দোকানের একটি শাটার খোলার সঙ্গে সঙ্গে ভিতরে রাখা ছোট গ্যাস সিলিন্ডার বিকট শব্দে বিস্ফোরিত হয়। মুহূর্তে আগুনের তীব্রতা বেড়ে যায় এবং পাশের সার ও কীটনাশকের দোকানেও ছড়িয়ে পড়ে।”
দূর্ঘটনার পরে ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা যায়, এখনও বাতাসে পোড়া গন্ধ ভাসছে। দোকানের আধাপাকা টিনশেড কাঠামো দাঁড়িয়ে থাকলেও ভিতরে কিছুই অবশিষ্ট নেই। পুড়ে যাওয়া ফ্যান, ব্যাটারি এবং তারের স্তূপের মধ্যে মোস্তফা খুঁজছেন তার খাতাপত্র।
পাশে দাঁড়িয়ে ছিলেন শেখ এন্টারপ্রাইজের পরিচালক ইমরান শেখ। তিনি জানান, “আমার সার, বীজ এবং সিসিটিভি ক্যামেরা আগুনে পুড়ে প্রায় ৯ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে। আমরা এখন দিশেহারা।”
স্থানীয়রা এবং কুমারখালী ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা প্রায় ৪০ মিনিট চেষ্টা করে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনলেও ব্যবসায়ীরা অভিযোগ করেছেন, ফায়ার সার্ভিস আসতে দেরি হওয়ায় ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ বৃদ্ধি পেয়েছে। তবে ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন লিডার সাইদ ইকবাল এ অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “খবর পাওয়ার ১২ মিনিটের মধ্যেই আমরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে কাজ শুরু করেছি। প্রাথমিকভাবে বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।”
বাজার পরিচালনা কমিটির সদস্য তৈয়বুর রহমান ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য সরকারের সহায়তা চেয়েছেন। তিনি বলেন, “আগুনে দুই ব্যবসায়ীর ২০ থেকে ৩০ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে। সরকারি সহায়তা ছাড়া তাদের পরিবার পথে বসে যাবে।”
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফারজানা আখতার ক্ষতিগ্রস্তদের আশ্বস্ত করেছেন, “যারা লিখিত আবেদন করবেন, তাদের সরকারি বরাদ্দ সাপেক্ষে সহায়তা দেওয়া হবে। পাশাপাশি তাদের জন্য সহজ শর্তে ঋণের ব্যবস্থা করা হবে।”









