বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) দীর্ঘ বিরতির পর আবারও জাতীয় কাউন্সিল আয়োজনের প্রস্তুতি নিচ্ছে। চলতি বছরেই এই কাউন্সিলের আয়োজনের তোড়জোড় শুরু হয়েছে, যা দলের ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব কাঠামোতে বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে।
এই প্রেক্ষাপটে বর্তমান মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর জানিয়েছেন, কাউন্সিল শেষে তিনি সক্রিয় রাজনীতি থেকে সরে দাঁড়ানোর পরিকল্পনা করছেন। একটি বেসরকারি টেলিভিশনকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, যদিও নির্দিষ্ট তারিখ এখনো চূড়ান্ত হয়নি, তবে ২০২৬ সালের মধ্যেই কেন্দ্রীয় কাউন্সিল সম্পন্ন করার লক্ষ্য নিয়ে দল এগোচ্ছে।
দলীয় সূত্র অনুযায়ী, জাতীয় কাউন্সিলের আগে তৃণমূল পর্যায়ের কমিটি পুনর্গঠন এবং স্থানীয় সম্মেলন সম্পন্ন করাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। প্রায় এক দশক পর অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া এই কাউন্সিলকে বিএনপির জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক মোড় হিসেবে দেখা হচ্ছে।
শেষবার বিএনপির জাতীয় কাউন্সিল অনুষ্ঠিত হয়েছিল প্রায় দশ বছর আগে। এরপর দীর্ঘ সময় রাজনৈতিক পরিস্থিতি, আন্দোলন এবং সাংগঠনিক চ্যালেঞ্জের কারণে নতুন কাউন্সিল আয়োজন বিলম্বিত হয়। তবে সাম্প্রতিক সময়ে স্থায়ী কমিটির বৈঠকে বিষয়টি নিয়ে গুরুত্বসহকারে আলোচনা হয়েছে, যদিও এখনো কোনো চূড়ান্ত সময়সূচি ঘোষণা করা হয়নি।
আসন্ন কাউন্সিলে সবচেয়ে আলোচিত বিষয়গুলোর একটি হলো মহাসচিব পদে সম্ভাব্য পরিবর্তন। মির্জা ফখরুল নিজেই জানিয়েছেন, তিনি এখন দায়িত্ব ছাড়ার জন্য মানসিকভাবে প্রস্তুত এবং অবসরের দিকে যেতে চান। বয়স ও স্বাস্থ্যগত কারণ উল্লেখ করে তিনি বলেন, “আমি যথেষ্ট ক্লান্ত। কাউন্সিল পর্যন্ত দায়িত্ব পালন শেষে বিদায় নিতে চাই।”
দলীয় রাজনীতিতে তার দীর্ঘ অভিজ্ঞতা ও অবদান উল্লেখযোগ্য। ২০১৬ সাল থেকে তিনি পূর্ণাঙ্গ মহাসচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। এর আগে ২০১১ সাল থেকে তিনি ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব ছিলেন এবং ২০০৯ সালের পঞ্চম কাউন্সিলে সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব হিসেবে দায়িত্ব পান।
তার রাজনৈতিক যাত্রা শুরু হয় ষাটের দশকে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগে পড়াকালীন সময়ে বামপন্থী ছাত্র রাজনীতির মাধ্যমে। তিনি ছাত্র ইউনিয়নের সক্রিয় নেতা হিসেবে এসএম হল শাখার সাধারণ সম্পাদক এবং পরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থানে অংশ নেওয়ার কারণে তাকে কারাবরণও করতে হয়েছিল।
শিক্ষাজীবন শেষে তিনি ১৯৭২ সালে বিসিএস শিক্ষা ক্যাডারে ঢাকা কলেজে প্রভাষক হিসেবে যোগ দেন। পরে সরকারি চাকরিতে অডিট অধিদপ্তর ও ইউনেস্কো জাতীয় কমিশনে কাজ করেন এবং উপ-প্রধানমন্ত্রী এস.এ. বারীর একান্ত সচিব হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন।
১৯৮৬ সালে তিনি সরকারি চাকরি ছেড়ে দিয়ে সরাসরি রাজনীতিতে প্রবেশ করেন। ১৯৮৮ সালে ঠাকুরগাঁও পৌরসভার চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। এরপর নব্বইয়ের দশকে এরশাদবিরোধী আন্দোলনের সময় বিএনপিতে যোগ দিয়ে ১৯৯২ সালে ঠাকুরগাঁও জেলা বিএনপির সভাপতির দায়িত্ব পান। সেই সময় থেকে টানা তিন দশকের বেশি সময় ধরে তিনি দলের কেন্দ্রীয় নীতিনির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে চলেছেন।









