আগামী ১২ মে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনের নির্বাচন। নির্বাচন কমিশনের (ইসি) তফসিল অনুযায়ী রাজনৈতিক দলগুলো প্রস্তুতি শুরু করলেও জামায়াতে ইসলামী তাদের প্রার্থী মনোনয়নে ভিন্নধর্মী ও কঠোর অবস্থান নিয়েছে। দলীয় সূত্রে জানা গেছে, এবার ‘পরিবারতন্ত্র’ এড়াতে নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের স্ত্রী-কন্যা বা নিকটাত্মীয়দের সংরক্ষিত আসনে মনোনয়ন না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে দলটি।
ভোটের শতাংশ অনুযায়ী, জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ‘১১ দলীয় ঐক্য’ পাচ্ছে মোট ১৩টি সংরক্ষিত আসন। এর মধ্যে ১১টি আসনে জামায়াত নিজের প্রার্থী চূড়ান্ত করেছে। বাকি দুটি আসনের মধ্যে একটি এনসিপি-কে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিশ্চিত হলেও অন্যটি বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসসহ জোটের অন্য শরিকদের কাকে দেওয়া হবে, তা নিয়ে আলোচনা চলছে।
উল্লেখ্য, ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে ৬৮টি আসন জিতে প্রধান বিরোধী দলের মর্যাদা পাওয়া জামায়াত প্রতি ছয়জন সাধারণ সদস্যের বিপরীতে একটি করে সংরক্ষিত আসন লাভ করছে। এই অনুপাতে সংরক্ষিত ৫০টি নারী আসনের মধ্যে জামায়াত পাবে ১১টি। কোনো কারণে বণ্টন আসনসংখ্যা মোট আসনের চেয়ে বেড়ে গেলে ভগ্নাংশের হিসাবে হেরফের হতে পারে। আইনে কোনো ক্ষেত্রে লটারির বিধানও রয়েছে।
জামায়াতের একাধিক কেন্দ্রীয় নেতার সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন শেষ হওয়ার পরই সংরক্ষিত নারী আসনের নির্বাচন নিয়ে দলীয় প্রস্তুতি শুরু হয়। সবকিছু বিবেচনায় নিয়ে জামায়াতে ইসলামীর মহিলা বিভাগকে দায়িত্ব দেওয়া হয় যোগ্য প্রার্থীদের বাছাই করার জন্য। পুরো মার্চ মাস কেন্দ্র থেকে তৃণমূল পর্যন্ত সব স্তরে যোগ্য প্রার্থী যাচাই-বাছাইয়ের কাজ শেষে দলের মহিলা বিভাগ একটি ১২ সদস্যের তালিকা কেন্দ্রীয় জামায়াতে ইসলামীকে জমা দেয়।
ভোটের শতাংশ অনুযায়ী, জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ‘১১ দলীয় ঐক্য’ পাচ্ছে মোট ১৩টি সংরক্ষিত আসন। এর মধ্যে ১১টি আসনে জামায়াত নিজের প্রার্থী চূড়ান্ত করেছে। বাকি দুটি আসনের মধ্যে একটি এনসিপি-কে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিশ্চিত হলেও অন্যটি বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসসহ জোটের অন্য শরিকদের কাকে দেওয়া হবে, তা নিয়ে আলোচনা চলছে ,সেখান থেকে ১১ জনের নাম চূড়ান্ত করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এবং কেন্দ্রীয় মিডিয়া ও প্রচার বিভাগের প্রধান এহসানুল মাহবুব জুবায়ের।
তিনি গত শুক্রবার (১০ এপ্রিল) রাতে গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, জামায়াতে ইসলামী বিএনপি বা অন্য কোনো সংগঠনের মতো ঘটা করে মনোনয়ন ফরম বিক্রি করে না। দলের অভ্যন্তরীণ প্রক্রিয়ায় সবকিছু বিবেচনায় নিয়ে সংরক্ষিত নারী আসনের ১১ জন প্রার্থীর তালিকা চূড়ান্ত করা হয়েছে। বাকি থাকছে দুটি। ভোটের পারসেন্টেজ অনুযায়ী বাকি দুটি জোটের দুই শরিক দলকে দেওয়া হবে। সেটি নিয়ে জোটে আলাপ চলছে। এর মধ্যে একটি এনসিপি পাচ্ছে, তা নিশ্চিত করেন তিনি।
ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী, মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ তারিখ ২১ এপ্রিল। মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই হবে ২২ ও ২৩ এপ্রিল। আপিল দায়েরের তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে ২৬ এপ্রিল। আপিল নিষ্পত্তি হবে ২৭ ও ২৮ এপ্রিল। প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ সময় ২৯ এপ্রিল। প্রতীক বরাদ্দ দেওয়া হবে ৩০ এপ্রিল। ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে ১২ মে।
নির্বাচন পরিচালনায় রিটার্নিং কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন মইনুদ্দিন খান। সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা হিসেবে থাকবেন মনির হোসেন। এছাড়া, চারজন পোলিং এজেন্ট নিয়োজিত থাকবেন।









