আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান বলেছেন, গণভোট নিয়ে এনসিপি নেতারা যে মন্তব্য করছেন, তা তারা পুরোপুরি না বুঝেই দিচ্ছেন। তাদের বক্তব্য আংশিক বোঝাপড়ার ওপর ভিত্তি করে দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, এ বিষয়ে তাদের বক্তব্যের জবাব জাতীয় সংসদেই দেওয়া হবে। বিএনপি জুলাই সনদকে শ্রদ্ধা করে এবং সেই সনদের আলোকেই এগিয়ে যেতে চায়। আবেগ ও আইনের সমন্বয় করেই সরকার কাজ করছে।
সোমবার কুষ্টিয়ার খোকসা উপজেলার মোড়াগাছা–হাশিমপুর খালের উৎস থেকে তিন কিলোমিটার পুনখনন কাজের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলছিলেন। মোড়াগাছা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে অনুষ্ঠিত এ সভায় সভাপতিত্ব করেন জেলা প্রশাসক (ভারপ্রাপ্ত) মাহবুব উল ইসলাম।
মামলার জট প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে আইনমন্ত্রী বলছিলেন, এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ভুক্তভোগী ও বিচার বিভাগের সঙ্গে মতবিনিময় করা হবে। আলোচনার মাধ্যমে যে কার্যকর সুপারিশ পাওয়া যাবে, সেই অনুযায়ী পদক্ষেপ নেওয়ার চেষ্টা করা হবে। তিনি আরও বলেন, অযৌক্তিকভাবে আইন মন্ত্রণালয়ে ন্যস্ত থাকা বিচারকদের বিরুদ্ধেও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এছাড়া নির্বাচনী ইশতেহারের প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী আগামী পাঁচ বছরে ২০ হাজার কিলোমিটার খাল ও নালা পুনখননের মাধ্যমে নদীর নাব্যতা ফিরিয়ে আনার পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন কুষ্টিয়া-৪ আসনের সংসদ সদস্য আফজাল হোসেন, কুষ্টিয়া-১ আসনের সংসদ সদস্য রেজা আহমেদ বাচ্চু, জেলা পরিষদের প্রশাসক সোহরাব উদ্দিন, পুলিশ সুপার জসিম উদ্দিন, জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কুতুব উদ্দিন আহম্মদ এবং খোকসা উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মোস্তাফিজুর রহমান মোস্তাকসহ অন্যরা।
এদিকে ঝিনাইদহের হরিণাকুণ্ডু উপজেলার কন্যাদহ গ্রামে ‘ডি-২-৭এন’ নামে মৃতপ্রায় একটি নিষ্কাশন খাল পুনখনন কাজের উদ্বোধন করতেও উপস্থিত ছিলেন আইনমন্ত্রী। সেখানে তিনি বলেন, ভোটের পরপরই নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের কাজ শুরু হয়েছে। তিনি বলেন, “হাতের আঙুলের দাগ এখনো মুছে যায়নি, এর মধ্যেই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন শুরু হয়েছে। এটিই বিএনপি সরকার, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সরকার।”
তিনি জানান, ইতোমধ্যে ফ্যামিলি কার্ডের আওতায় ৩৮ হাজার পরিবারকে ভাতা দেওয়া হয়েছে এবং পর্যায়ক্রমে দেশের প্রায় চার কোটি মানুষকে এই কর্মসূচির আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে। এটিকে তিনি যুগান্তকারী উদ্যোগ হিসেবে উল্লেখ করেন।
মন্ত্রী বলছিলেন, পুনখনন করা হলে এই নিষ্কাশন খালটি এলাকার হাজার হাজার কৃষকের জন্য উপকার বয়ে আনবে। এতে বর্ষার পানি দ্রুত নিষ্কাশন হবে, জলাবদ্ধতা কমবে এবং শুষ্ক মৌসুমে কৃষিজমিতে সেচ সুবিধা বাড়বে, যা স্থানীয় কৃষি উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।









