যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে ৭০ লাখ বেসামরিক ইরানি প্রস্তুত!
প্রকাশ:

বিস্তারিত
ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র যদি স্থল আক্রমণ চালায়, তাতে দেশজুড়ে প্রায় ৭০ লাখ বেসামরিক নাগরিক অস্ত্র হাতে নিয়ে প্রতিরক্ষা কার্যক্রমে অংশ নিতে প্রস্তুত।
বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ দেওয়া পোস্টে তিনি বলেন, “ইরান যুদ্ধ চায় না, কিন্তু আক্রান্ত হলে দৃঢ়ভাবে আত্মরক্ষা করবে। যখন দেশের প্রতিরক্ষা বিপন্ন হয়, তখন প্রতিটি ইরানি সৈনিকের মতো কাজ করতে মানুষ প্রস্তুত থাকে।”
গালিবাফ আরও বলেন, “যুদ্ধ পরিস্থিতিতে এক সপ্তাহেরও কম সময়ের মধ্যে দেশজুড়ে শক্তিশালী প্রতিরক্ষা আন্দোলন গড়ে উঠেছে, যেখানে প্রায় ৭০ লাখ নাগরিক ইতিমধ্যে অস্ত্র হাতে নেওয়ার জন্য প্রস্তুত।”
তিনি মার্কিন সেনাদের হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “আপনি আমাদের দেশে আক্রমণ করলে একাই নয়, পুরো পরিবারের সঙ্গে মোকাবিলা করতে হবে।” স্পিকার আরও যোগ করেন, “মাতৃভূমি রক্ষায় ইরানিরা শুধু কথা বলে না; তারা অতীতেও জীবন উৎসর্গ করেছে এবং পুনরায় তা করতে প্রস্তুত, সশস্ত্র ও দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।”
গালিবাফের এই বক্তব্য মূলত বুধবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের হুমকির জবাব হিসেবে এসেছে। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প উল্লেখ করেছিলেন, “২–৩ সপ্তাহের মধ্যে ইরানে বড় আঘাত হানা হবে। আমরা তাদের ‘প্রস্তর যুগে’ ফিরিয়ে দেব, যেখানে তারা থাকা উচিত।”
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, গালিবাফের মতো উচ্চপদস্থ কর্মকর্তার এই ঘোষণার পর ইরানি সরকার সাধারণ জনগণ ও অবসরপ্রাপ্ত সৈন্যদের যুদ্ধের প্রস্তুতিতে অংশগ্রহণের আহ্বান জানিয়েছে।
প্রসঙ্গত, ২০২৪-২৫ সালের গ্লোবাল ফায়ার পাওয়ার রিপোর্ট অনুযায়ী, ইরানের প্রায় ৯ কোটি জনসংখ্যার মধ্যে প্রায় ৬ লাখ ১০ হাজার সক্রিয় সৈন্য এবং প্রায় ৩ লক্ষ ৫০ হাজার রিজার্ভ সদস্য রয়েছে। দেশে দুটি প্রধান সেনাবাহিনী রয়েছে—নিয়মিত সেনাবাহিনী বা আরতেশ এবং প্রভাবশালী ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)। এছাড়া আইআরজিসির অধীনে বাসিজ ফোর্স রয়েছে, যার ৯০ হাজার থেকে ১ লাখ নিয়মিত সদস্য এবং কয়েক লাখ রিজার্ভ সদস্য আছে।
সূত্র: তাসনিম নিউজ








