ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র ও জুলাই যোদ্ধা শরিফ ওসমান বিন হাদিকে গুলি করে হত্যার ঘটনায় তদন্তের অগ্রগতি জানাতে আজ রোববার একটি সমন্বিত সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে। এ সংবাদ সম্মেলনে র্যাব, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) ও পুলিশের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা অংশ নেবেন। তারা তদন্তে এ পর্যন্ত পাওয়া তথ্য, গ্রেপ্তারদের ভূমিকা এবং মামলার সর্বশেষ অগ্রগতি তুলে ধরবেন।
র্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক উইং কমান্ডার এম জেড এম ইন্তেখাব চৌধুরী সংবাদমাধ্যমকে জানান, সব সংস্থার সমন্বয়ে রোববার এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়েছে। সেখানে তদন্তের সার্বিক চিত্র বিস্তারিতভাবে উপস্থাপন করা হবে বলে তিনি জানান।
জানা গেছে, হাদি হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় এ পর্যন্ত মোট ১১ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এর মধ্যে র্যাব আটজনকে গ্রেপ্তার করেছে। তারা হলেন— প্রধান সন্দেহভাজন ফয়সাল করিম মাসুদের বাবা হুমায়ুন কবির, মা হাসি বেগম, স্ত্রী সাহেদা পারভীন সামিয়া, শ্যালক ওয়াহিদ আহমেদ শিপু, বান্ধবী মারিয়া আক্তার লিমা, সহযোগী মো. কবির ওরফে দাঁতভাঙা কবির, মো. ফয়সাল এবং হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত মোটরসাইকেলটির মালিক আব্দুল হান্নান।
এছাড়া পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে সীমান্তে অবৈধভাবে লোক পারাপারের (মানবপাচার) সঙ্গে জড়িত সঞ্জয় চিসিম ও সিবিয়ন দিওকে এবং ফয়সালকে পালাতে সহায়তাকারী মো. নুরুজ্জামান নোমানীকে। এ মামলায় দুইজন গাড়িচালককে সাক্ষী করা হয়েছে।
এদিকে, ওসমান হাদিকে গুলির ঘটনায় প্রথমে হত্যাচেষ্টার অভিযোগে দায়ের করা মামলাটি শনিবার আদালতের নির্দেশে হত্যা মামলা হিসেবে তদন্তের আদেশ দেওয়া হয়। এরপর মামলাটি আনুষ্ঠানিকভাবে হত্যা মামলায় রূপান্তর করা হয়েছে। গত ১৪ ডিসেম্বর রাতে পল্টন থানায় ইনকিলাব মঞ্চের সদস্যসচিব আবদুল্লাহ আল জাবের মামলাটি দায়ের করেন। এজাহারে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের নেতা ফয়সাল করিম মাসুদসহ অজ্ঞাতনামা কয়েকজনকে আসামি করা হয়।
উল্লেখ্য, গত ১২ ডিসেম্বর দুপুরে রাজধানীর পুরানা পল্টনের বক্স-কালভার্ট রোডে রিকশায় থাকা অবস্থায় ওসমান হাদির মাথায় গুলি চালায় মোটরসাইকেলযোগে আসা এক সন্ত্রাসী। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে বিদেশে চিকিৎসার জন্য নেওয়া হয়। ছয় দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর গত বৃহস্পতিবার সিঙ্গাপুরের একটি হাসপাতালে তিনি মারা যান।
শুক্রবার সন্ধ্যায় বিমান বাংলাদেশের একটি ফ্লাইটে সিঙ্গাপুর থেকে শহীদ ওসমান হাদির মরদেহ দেশে আনা হয়। শনিবার দুপুর ২টায় জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় বড় ভাই আবু বকর সিদ্দিকের ইমামতিতে তার জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। পরে বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অবস্থিত জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের সমাধি চত্বরে তাকে দাফন করা হয়।









