ঢাকার কেরানীগঞ্জে মাদকসেবনে বাধা দেওয়াকে কেন্দ্র করে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) এক শিক্ষক ও তার পিতার ওপর হামলার ঘটনায় দায়ের হওয়া মামলার একমাত্র গ্রেপ্তারকৃত আসামি এহসানুর হক মাহিমকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।
শুক্রবার (১০ এপ্রিল) ঢাকা জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট তানভীর আহমেদ শুনানি শেষে তাকে কারাগারে প্রেরণের আদেশ দেন।
একই সঙ্গে মামলার পরবর্তী শুনানির তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে আগামী রবিবার (১২ এপ্রিল)। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ভুক্তভোগী শিক্ষকের আইনজীবী খালিদ হোসাইন।
আদালত ও মামলার নথি থেকে জানা যায়, গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৭টা ৪৫ মিনিটের দিকে কেরানীগঞ্জ মডেল থানাধীন কালিন্দী ইউনিয়নের মাদারীপুর সড়ক-২ এলাকায় এই হামলার ঘটনা ঘটে।
অভিযোগে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে সহযোগী অধ্যাপক মো. রাইসুল ইসলামের বাড়ির সামনে আড্ডা ও মাদকসেবন করতেন মাহিম। বিষয়টি নিয়ে নিষেধ করা হলে তিনি একাধিকবার শিক্ষক পরিবারের সদস্যদের হুমকি দেন।
ঘটনার দিন শিক্ষক রাইসুল ইসলামের পিতা নজরুল ইসলাম (৬৭) তাকে আড্ডা দেওয়া থেকে বিরত থাকতে বললে মাহিম উত্তেজিত হয়ে ওঠেন। তিনি প্রথমে বৃদ্ধকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন, পরবর্তীতে মাটিতে ফেলে কিল-ঘুষি ও লাথি মারেন। এমনকি লোহার রড দিয়ে আঘাতের চেষ্টা করলে তা নজরুল ইসলামের চোখের নিচে লেগে গুরুতর জখম হয়।
শিক্ষক রাইসুল ইসলাম অভিযোগ করেন, হামলার সময় তার পিতার পকেটে থাকা প্রায় ৬ হাজার টাকা কৌশলে নিয়ে যায় অভিযুক্ত মাহিম।
গুরুতর আহত নজরুল ইসলামের চিৎকারে স্থানীয় লোকজন এগিয়ে এলে মাহিম পালানোর চেষ্টা করে। পরে উত্তেজিত জনতা তাকে আটক করে পুলিশের হাতে তুলে দেয়।
হামলার পরদিন ভুক্তভোগী পরিবার থানায় মামলা করতে গেলে প্রথমে সেটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) হিসেবে নেওয়ার চেষ্টা করা হয় বলে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করেন। পরে ঘটনাটিকে গুরুত্ব দিয়ে পুলিশ নিয়মিত মামলা গ্রহণ করে।
শুক্রবার আদালতে মাহিমকে হাজির করার সময় জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের একদল শিক্ষার্থী আদালত প্রাঙ্গণে বিক্ষোভ করেন। তারা দ্রুত বিচার ও হামলাকারীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।
ঢাকা জেলা পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান বলেন, ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। আইনগত প্রক্রিয়া দ্রুততার সঙ্গে এগিয়ে চলছে।









