জাতীয় সংসদ অধিবেশনে বিরোধী দল অপ্রাসঙ্গিক বিভিন্ন অজুহাত তুলে যে কয়েকবার ওয়াকআউট করেছে, তাকে ‘অযৌক্তিক’ বলে অভিহিত করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।
রবিবার (১২ এপ্রিল) সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে জাতীয় সংসদে উত্থাপিত ১৩৩টি অধ্যাদেশ নিয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ মন্তব্য করেন। এসময় উপস্থিত ছিলেন আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান এবং চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম মনি।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সংসদের অধিবেশন থেকে বিরোধীদলীয় সদস্যরা বিভিন্ন ইস্যুতে কয়েকবার ওয়াকআউট করেছেন, যা পার্লামেন্টারি নিয়ম অনুযায়ী বৈধ হলেও যেসব ইস্যুতে তারা ওয়াকআউট করেছেন, তার কিছু তথ্য সঠিকভাবে উপস্থাপিত হয়নি।
তিনি জানান, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের জারি করা অধ্যাদেশ নিষ্পত্তির জন্য সংসদের হাতে ৩০ দিন সময় ছিল, তবে ছুটির কারণে কার্যকর সময় কম পাওয়া গেছে। অধ্যাদেশগুলো পর্যালোচনার জন্য সংসদীয় স্থায়ী কমিটি না থাকায় একটি বিশেষ কমিটি গঠন করা হয়।
মন্ত্রী বলেন, ওই কমিটির প্রতিবেদনে ৯৮টি অধ্যাদেশ অপরিবর্তিতভাবে পাসের সুপারিশ করা হয়েছে, ১৬টি যাচাই-বাছাই শেষে বিল আকারে উপস্থাপনের কথা বলা হয়েছে এবং কিছু অধ্যাদেশ সংশোধন, রহিত বা সংরক্ষণের তালিকায় রাখা হয়েছে।
বিরোধীদলীয় নেতার বক্তব্যের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, ৯১টি বিল উপস্থাপনের মধ্যে বাকি অধ্যাদেশগুলোও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে, যা হয়তো বিরোধীদল খেয়াল করেনি।
সালাহউদ্দিন আহমদ আরও বলেন, সংসদে বিরোধীদলীয় সদস্যদের বক্তব্য দেওয়ার ক্ষেত্রে স্পিকার নজিরবিহীনভাবে অতিরিক্ত সময় দিয়েছেন। তারপরও অধিবেশনের শেষ দিনে ওয়াকআউট করা যুক্তিযুক্ত হয়নি বলে তিনি মনে করেন।
তিনি জানান, কিছু গুরুত্বপূর্ণ অধ্যাদেশ—যেমন গুম, মানবাধিকার কমিশন ও বিচারব্যবস্থা সংশ্লিষ্ট আইন—স্টেকহোল্ডারদের সঙ্গে আলোচনা করে আরও পরিমার্জিত আকারে পরবর্তীতে আনা হবে।
মন্ত্রী বলেন, তড়িঘড়ি করে আইন পাস না করে তা আরও পর্যালোচনা করে জনগণের জন্য কার্যকর ও ন্যায়সঙ্গত করা প্রয়োজন। তবে বিরোধীদল এসব বিষয়কে রাজনৈতিকভাবে উপস্থাপন করেছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।









