বাংলাদেশের প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্প রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র-এর প্রথম ইউনিটে উৎপাদন শুরুর লক্ষ্যে কমিশনিং লাইসেন্স প্রদান করেছে বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ (বায়েরা)। একই সঙ্গে ইউনিটটিতে জ্বালানি লোডিং কার্যক্রম শুরু করার প্রস্তুতিও সম্পন্ন হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) নিয়ন্ত্রক সংস্থাটির চেয়ারম্যান মাহমুদুল হাসান আনুষ্ঠানিকভাবে লাইসেন্সটি হস্তান্তর করেছেন বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশন-এর চেয়ারম্যান ড. এম মঈনুল ইসলাম-এর কাছে।
লাইসেন্স পাওয়ার আগে প্রকল্প কর্তৃপক্ষ নির্মাণসংক্রান্ত সব কারিগরি পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও প্রস্তুতিমূলক কাজ সম্পন্ন করে। পাশাপাশি জাতীয় নিয়ন্ত্রক সংস্থা ও আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুসরণ করে বিভিন্ন ধাপে পর্যবেক্ষণ, মূল্যায়ন ও পর্যালোচনাও শেষ করা হয়। এসব কার্যক্রম সন্তোষজনক হওয়ায় জ্বালানি লোডিংয়ের জন্য কমিশনিং লাইসেন্স দেওয়া হয়েছে।
জ্বালানি লোডিং পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের কমিশনিং পর্যায়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ। এ ধাপে রিঅ্যাক্টরে পারমাণবিক জ্বালানি স্থাপন করা হয় এবং পরবর্তী সময়ে ধাপে ধাপে পরীক্ষার মাধ্যমে বিদ্যুৎ উৎপাদনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়।
পরিকল্পনা অনুযায়ী ২০২৩ সালে প্রথম ইউনিট থেকে উৎপাদন শুরু হওয়ার কথা থাকলেও বিভিন্ন কারণে তা পিছিয়ে যায়। রাশিয়ার ওপর পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞার প্রভাব এবং জার্মান কোম্পানি সিমেন্স এর সাবস্টেশন সরবরাহে জটিলতা তৈরি হওয়ায় প্রকল্প বাস্তবায়নে বিলম্ব ঘটে। পরে বিকল্প হিসেবে চীনা ঠিকাদার নিয়োগ দেওয়া হয়।
অন্যদিকে সঞ্চালন লাইন নির্মাণে পাওয়ার গ্রিড কোম্পানি অব বাংলাদেশ (পিজিসিবি) নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ করতে না পারায় বাণিজ্যিক উৎপাদনের সময়সূচিও পুনর্নির্ধারণ করা হয়।
দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে ব্যয়বহুল এ প্রকল্পে মোট ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ১ লাখ ১৩ হাজার কোটি টাকা, যার মধ্যে প্রায় ৯৩ হাজার কোটি টাকার অর্থায়ন করেছে রাশিয়া।
পারমাণবিক বিদ্যুতের অন্যতম সুবিধা হলো দীর্ঘমেয়াদে স্থিতিশীল খরচ-প্রায় ৬০ বছর একই দামে বিদ্যুৎ পাওয়া সম্ভব। বিপরীতে কয়লা, গ্যাস ও তেলভিত্তিক বিদ্যুতের উৎপাদন খরচ ওঠানামা করে। তুলনামূলকভাবে সাশ্রয়ী ও পরিবেশবান্ধব হওয়ায় পারমাণবিক বিদ্যুৎকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
বিদ্যুৎকেন্দ্রটি উৎপাদনে গেলে তেলভিত্তিক ব্যয়বহুল কেন্দ্রগুলো ধীরে ধীরে বন্ধ করার পরিকল্পনা রয়েছে, যা সামগ্রিক উৎপাদন ব্যয় কমাতে সহায়ক হবে বলে মনে করছে সংশ্লিষ্টরা। তবে এ ক্ষেত্রে উপযোগী সঞ্চালন ব্যবস্থা গড়ে তোলা এবং উৎপাদন-চাহিদার ভারসাম্য রক্ষা বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
বর্তমানে বিশ্বে প্রায় ৩০টি দেশে ৪৪৯টি পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র চালু রয়েছে, যা থেকে মোট বিদ্যুতের প্রায় ১২ শতাংশ উৎপাদিত হয়। এছাড়া ১৪টি দেশে আরও ৬৫টি কেন্দ্র নির্মাণাধীন রয়েছে।









