সংবাদপত্র যদি তার নিজস্ব জায়গায় শক্ত ও সোজা থাকে, তবে রাষ্ট্রের বাকি তিনটি স্তম্ভও সঠিকভাবে চলতে বাধ্য হয় বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। আর গণমাধ্যমের অংশটি ভেঙে পড়লে বা ব্যর্থ হলে রাষ্ট্রের বাকি অঙ্গগুলোও স্বয়ংক্রিয়ভাবে ব্যর্থ হয়ে যায় বলেও জানান জামায়াতে আমির।
শনিবার (১৪ মার্চ) রাজধানীর একটি মিলনায়তনে ঢাকা মহানগরী দক্ষিণ জামায়াতে ইসলামীর উদ্যোগে গণমাধ্যমকর্মীদের সম্মানে আয়োজিত এক ইফতার মাহফিলে তিনি এ কথা বলেন।
সাংবাদিকদের বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশনের আহ্বান জানিয়ে জামায়াত আমির বলেছেন, আপনারা সাদাকে সাদা এবং কালোকে কালো বলবেন। আমরা চাই আপনারা আপনাদের এই কণ্ঠকে সবসময় সোচ্চার রাখবেন। গত ফ্যাসিবাদী শাসনামলে সংবাদমাধ্যমে যারা সত্যিকার অর্থে সাদাকে সাদা বলতে চেয়েছিলেন, তাদের কণ্ঠরোধ করে দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু তারা এখন সফল হয়েছেন এবং এই সফলতার রেশ যেন বজায় থাকে।
সাংবাদিকদের ওপর নির্যাতনের চিত্র তুলে ধরে জামায়াত আমির বলেছেন, আমাদের প্রবীণ সম্পাদক আবুল আসাদ আজীবন সত্য ও স্বাধিকারের পক্ষে লড়াই করেছেন। অথচ বয়োবৃদ্ধ অবস্থায় তাকে কীভাবে নির্যাতন করে জেলে নেওয়া হয়েছে, তা আপনারা দেখেছেন। তাকে প্রকাশ্যে দিবালোকে হত্যার উদ্দেশ্যে আক্রমণ করে রক্তাক্ত করা হয়েছিল। সাংবাদিক শফিকুল ইসলাম কাজলসহ অনেককে গুম ও নির্যাতন করা হয়েছে, যাদের মূল অপরাধ ছিল সত্য কথা বলা।
বিরোধী দল পাহারাদারের ভূমিকা পালন করবেন উল্লেখ করে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, সরকারি দল বা যারা ক্ষমতায় থাকবেন, তারা যদি জাতীয় স্বার্থে ভালো কাজ করেন, তবে আমরা তাদের সমর্থন দেব, সাধুবাদ জানাবো এবং প্রয়োজনে একসাথে লড়াই করব। কিন্তু তারা যদি জনবিচ্ছিন্ন বা পথচ্যুত হয়ে যায়, তবে আমরা তাদের সোজা করে রাস্তায় আনতে বাধ্য করব।
জামায়াত আমির আশা প্রকাশ করে বলেন, এমন এক বাংলাদেশ চাই যেখানে আর কখনও ফ্যাসিবাদের আবির্ভাব ঘটবে না। এমন বাংলাদেশ চাই, যে বাংলাদেশ আর কোনো আধিপত্যবাদীর কাছে মাথা নত করবে না।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ঢাকা মহানগরী দক্ষিণ জামায়াতের আমির মো. নূরুল ইসলাম বুলবুল। এতে বিভিন্ন গণমাধ্যমের সাংবাদিকসহ জামায়াতে ইসলামীর বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।









