পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে ঢাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ও রাজধানীবাসীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়েছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) ও র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব)।
ঈদের টানা সাত দিনের সরকারি ছুটিতে রাজধানী যখন প্রায় খালি হয়ে যাবে, তখন মানুষের জানমালের নিরাপত্তা দিতে র্যাব-পুলিশের অন্তত ১৬ হাজার সদস্য তৎপর থাকবেন। এ সময় রাস্তায় তল্লাশিচৌকি বসানোর পাশাপাশি বিপণিবিতান ও আবাসিক এলাকায় টহল জোরদার করা হয়েছে।
ডিএমপির একাধিক কর্মকর্তা বলেন, ঈদের ছুটিতে চুরি, ছিনতাই, ডাকাতিসহ বিভিন্ন অপরাধ ঠেকাতে রাতের বেলায় বাড়ানো হয়েছে পুলিশি টহল ও তল্লাশিচৌকি।
ঈদুল ফিতর উপলক্ষে ইতিমধ্যে ১৭ থেকে ২৩ মার্চ পর্যন্ত টানা সাত দিনের ছুটি শুরু হয়েছে। এ সময় স্বজনদের সঙ্গে আনন্দ ভাগাভাগি করতে রাজধানী ছেড়ে যাবেন বিপুলসংখ্যক মানুষ। ফাঁকা ঢাকায় অপরাধ বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে। চুরি, ছিনতাই, ডাকাতি ও বিশেষ করে সোনার মার্কেটে ডাকাতি ভয়ের অন্যতম কারণ।
ডিএমপি এক কর্মকর্তারা জানান, আগের ঘটনাগুলো বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, ঈদের ছুটির দিনগুলোতে সোনার দোকানে চুরি-ডাকাতি হয়। নিরাপত্তাকর্মীকে বেঁধে রেখে আবার নিরাপত্তাকর্মীদের যোগসাজশে সোনার দোকানে ডাকাতি হয়। এসব অভিজ্ঞতা মাথায় রেখে এবারের ঈদের আগে ও পরে নিরাপত্তা পরিকল্পনা সাজিয়েছে ডিএমপি ও র্যাব।
যোগাযোগ করা হলে ডিএমপির ভারপ্রাপ্ত কমিশনার মো. সরওয়ার একটি গণমাধ্যমকে দেওয়া বক্তব্যে বলেছেন , ঈদের আগে ও পরে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে রাজধানীতে ১৫ হাজারের বেশি পুলিশ তৎপর রয়েছে। জরুরি প্রয়োজন ছাড়া ইতিমধ্যে পুলিশ সদস্যদের ঈদের ছুটি বাতিল করা হয়েছে। তিনি বলেন, ঘরমুখী মানুষের ঢাকা ছাড়ার পর ঈদের কেনাকাটা, বিপণিবিতান, বিভিন্ন টার্মিনাল ও স্থাপনায় দায়িত্ব পালন করা অতিরিক্ত পুলিশ সদস্য ও সড়কে দায়িত্ব পালন করা ট্রাফিক পুলিশের সদস্যদের রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ সড়ক, অলিগলি ও আবাসিক এলাকায় নিরাপত্তার কাজে লাগানো হচ্ছে।
পুলিশ কর্মকর্তারা জানান, নিরাপত্তা জোরদারের লক্ষ্যে স্পর্শকাতর স্থান, সড়ক, স্থাপনা, বিপণিবিতান, বাসস্ট্যান্ড, রেলস্টেশন, লঞ্চ টার্মিনালে অতিরিক্ত পুলিশ ও র্যাব সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে।
মো. সরওয়ার বলেন, অপরাধ নিয়ন্ত্রণে রমজান মাসে ট্রাফিক পুলিশের সদস্যদের হাতেও অস্ত্র দেওয়া হয়েছে। তাঁরা দায়িত্ব পালনকালে হাতেনাতে ছিনতাইকারী পাকড়াও করছেন। সাদাপোশাকে পুলিশ ও তথ্যদাতাদের (সোর্স) মাধ্যমে অপরাধীদের আনাগোনা শনাক্ত করে গ্রেপ্তার করছেন।
ডিএমপির একাধিক কর্মকর্তা বলেন, ঈদের ছুটিতে চুরি, ছিনতাই, ডাকাতিসহ বিভিন্ন অপরাধ ঠেকাতে রাতের বেলায় বাড়ানো হয়েছে পুলিশি টহল ও তল্লাশিচৌকি। পুরান ঢাকা ছাড়াও মহানগরের বিভিন্ন এলাকার সোনার মার্কেটে থাকবে পুলিশের কড়া নজরদারি। বিনোদনকেন্দ্রগুলোতে নিরাপত্তার জন্য পর্যাপ্ত পুলিশ দায়িত্ব পালন করবে।
পুলিশ কর্মকর্তারা জানান, ইতিমধ্যে ঈদ উপলক্ষে বিভিন্ন বিপণিবিতান, কাঁচাবাজার ও আড়তের নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। নিরাপত্তা জোরদারের লক্ষ্যে স্পর্শকাতর স্থান, সড়ক, স্থাপনা, বিপণিবিতান, বাসস্ট্যান্ড, রেলস্টেশন, লঞ্চ টার্মিনালে অতিরিক্ত পুলিশ ও র্যাব সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। ছিনতাইকারী, ডাকাত, অজ্ঞান ও মলম পার্টির সদস্যদের ধরতে পুলিশ ও র্যাবের বিশেষ দল সক্রিয় রয়েছে।
রাতে ডিএমপির আটটি অপরাধ বিভাগের অতিরিক্ত পুলিশ নিয়ে বিশেষ ডিউটি করানো হচ্ছে। প্রতিদিন তিন পালায় ডিএমপির সাড়ে ৪ হাজার সদস্য মোট ৩০০ পিকআপ ভ্যানে শহরজুড়ে টহল দিচ্ছেন।
ঈদের আগে ও পরে র্যাব ১, ২, ৩, ৪ ও ১০-এর প্রায় এক হাজার সদস্য ঢাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে দায়িত্ব পালন করছেন।
গত কয়েক বছরের অভিজ্ঞতা বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, রাজধানীতে প্রতিদিন রাত ১১টা থেকে পরদিন সকাল ৬টা পর্যন্ত চুরি ও ছিনতাইয়ের ঘটনা বাড়ে। সম্ভাব্য স্থান চিহ্নিত করে ঢাকায় প্রতিদিন ৩০টির বেশি তল্লাশিচৌকি এবং ৫০টির বেশি টহল দল কাজ করছে।








