কুমিল্লার দাউদকান্দি উপজেলার গৌরীপুর হাট-বাজারে ইজারাদারের বিরুদ্ধে অতিরিক্ত টোল আদায়ের অভিযোগে তীব্র ক্ষোভ বিরাজ করছে ব্যবসায়ীদের মধ্যে।
প্রতিবাদ হিসেবে সাপ্তাহিক কাঠ বাজারে অধিকাংশ ব্যবসায়ী দোকান না বসায়, রবিবার বাজার অনেকটাই ফাঁকা দেখা গেছে। একই সঙ্গে সবজি বাজার ও গৌরীপুর মোড়ের ফল ব্যবসায়ীরাও ইজারাদারের কথিত হয়রানি ও অতিরিক্ত খাজনা আদায়ে অতিষ্ঠ বলে জানিয়েছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, চলতি বছরে প্রায় ২ কোটি ৪০ লাখ টাকায় গৌরীপুর হাট-বাজার ইজারা নেওয়া হয়। এর সঙ্গে ভ্যাট ও আয়কর যুক্ত হওয়ায় মোট আর্থিক চাপ আরও বেড়েছে। অভিযোগ রয়েছে, নির্ধারিত সরকারি নীতিমালা অনুযায়ী টোল আদায়ের কথা থাকলেও বাজারে কোথাও টোলের তালিকা (চার্ট) টানানো হয়নি। ফলে ইজারাদারের লোকজন ইচ্ছেমতো খাজনা আদায় করছেন।
রবিবার সাপ্তাহিক কাঠ বাজারে গিয়ে দেখা যায়, স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় দোকানপাট অনেক কম। ব্যবসায়ীরা জানান, নতুন বছরের শুরুতেই হঠাৎ করে খাজনা কয়েকগুণ বাড়ানো হয়েছে। এর প্রতিবাদেই অন্তত ২০–২৫ জন কাঠ ব্যবসায়ী এ সপ্তাহে বাজারে আসেননি।
বাতাকান্দি গ্রামের কাঠ ব্যবসায়ী মনির হোসেন বলেন, তিনি প্রায় ১৫ বছর ধরে এই বাজারে ব্যবসা করছেন। আগে যেখানে ১৫০ টাকা দিয়ে শুরু করেছিলেন, সেখানে গত সপ্তাহে তাকে ২,৫০০ টাকা পর্যন্ত খাজনা দিতে হয়েছে। তিনি বলেন, “আমি ছোট ব্যবসায়ী, সংসার চালানোই কঠিন হয়ে গেছে। অনেকেই বেশি খাজনার কারণে আসেইনি।”
একই অভিযোগ করেন দীর্ঘদিনের ব্যবসায়ী দুলাল মিয়া ও সিপন মিয়া। তারা জানান, আগে ৩০০ টাকা থেকে শুরু করে সর্বোচ্চ ৫,০০০ টাকা পর্যন্ত খাজনা দিলেও বর্তমানে তা বেড়ে ৯,০০০ টাকায় দাঁড়িয়েছে। তাদের ভাষায়, “প্রতি সপ্তাহে ভাড়া, শ্রমিক মজুরি আর খাজনা মিলিয়ে ২৫–৩০ হাজার টাকা খরচ হয়। বিক্রি না হলেও এই খরচ দিতে হয়। আমরা একপ্রকার জিম্মি অবস্থায় আছি।”
অনুসন্ধানে আরও জানা গেছে, শুধু কাঠ বাজার নয়—গৌরীপুরের সবজি বাজার ও গৌরীপুর মোড়ের ফল ব্যবসায়ীরাও একই সমস্যায় ভুগছেন।
একাধিক সবজি ও ফল বিক্রেতা অভিযোগ করেন, তাদের কাছ থেকেও নির্ধারিত হারের চেয়ে বেশি টাকা আদায় করা হচ্ছে। কেউ প্রতিবাদ করলে নানা ধরনের চাপের মুখে পড়তে হয় বলে দাবি তাদের।
ব্যবসায়ীদের আশঙ্কা, এই অবস্থা চলতে থাকলে ঐতিহ্যবাহী গৌরীপুর বাজার ধীরে ধীরে ব্যবসা হারাবে এবং ছোট ব্যবসায়ীরা পেশা পরিবর্তনে বাধ্য হবেন।









