ইসলামী বক্তা ড. মিজানুর রহমান আজহারী-এর ছবি ও কণ্ঠ ব্যবহার করে ‘ডিপফেক’ ভিডিও তৈরি এবং যৌন উত্তেজক পণ্য বিক্রির মাধ্যমে প্রতারণার অভিযোগে গ্রেপ্তার ১০ যুবককে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
রোববার (২৬ এপ্রিল) প্রসিকিউশন বিভাগের উপ-পরিদর্শক রোকনুজ্জামান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, আসামিদের আদালতে হাজির করে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা। অন্যদিকে, আসামিপক্ষ জামিন আবেদন করলে শুনানি শেষে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট ইশরাত জাহান তা নামঞ্জুর করে তাদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন।
কারাগারে পাঠানো ১০ আসামি হলেন-মো. সারাফাত হোসেন (২৪), মো. শাফায়েত হোসেন শুভ (২১), শাহাদাত তৌফিক (২১), মো. ইমাম হোসেন বিজয় (২১), মো. রফিকুল হাসান (২১), মিনহাজুর রহমান শাহেদ (১৯), তৌকি তাজওয়ার ইলহাম (২১), অমিদ হাসান (২১), মো. আব্দুল্লাহ ফাহিম (২১) এবং মো. ইমরান (২৪)। তারা দেশের বিভিন্ন জেলার বাসিন্দা হলেও চট্টগ্রামের বায়েজিদ বোস্তামী থানা এলাকায় একটি ফ্ল্যাট ভাড়া নিয়ে চক্রটি পরিচালনা করতেন।
এর আগে, গত ২৩ এপ্রিল বিলাল হোসেন রাজধানীর পল্টন মডেল থানায় সাইবার নিরাপত্তা আইনে মামলাটি দায়ের করেন। মামলার পর ডিএমপির পল্টন মডেল থানা ও সিএমপির বায়েজিদ বোস্তামী থানা পুলিশ চট্টগ্রামের শেরশাহ কলোনি এলাকায় যৌথ অভিযান চালিয়ে আসামিদের গ্রেপ্তার করে।
মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, গ্রেপ্তার হওয়া চক্রটি দীর্ঘদিন ধরে সুপরিকল্পিতভাবে ডিজিটাল প্রতারণা চালিয়ে আসছিল। তারা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে ড. আজহারীর ছবি ও কণ্ঠ সংগ্রহ করে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) ও ডিপফেক প্রযুক্তির মাধ্যমে তা নকল করত। পরে ভুয়া ভিডিও তৈরি করে তার কণ্ঠে ‘ইউরোসিন’ নামের একটি যৌন উত্তেজক ওষুধের প্রচারণা চালানো হতো।
এজাহারে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, সাধারণ মানুষ আজহারীর কথায় বিশ্বাস করে এসব পণ্য অর্ডার দিতেন। চক্রটি ‘আজহারী শপ’, ‘ডক্টর সেবা’, ‘হালাল শপ’সহ অন্তত ২৪টি ভুয়া ফেসবুক পেজ ও ওয়েবসাইট ব্যবহার করে এসব ভিডিও প্রচার করত। এরপর ‘পাঠাও’ ও ‘স্টিডফাস্ট’ কুরিয়ার সার্ভিসের মাধ্যমে ক্যাশ অন ডেলিভারিতে পণ্য পাঠিয়ে গ্রাহকদের কাছ থেকে বিপুল অর্থ হাতিয়ে নিত তারা।









