বাংলাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এখন জনমত গঠনের গুরুত্বপূর্ণ একটি ক্ষেত্র। এই পরিসরে প্রায়ই শোনা যায় ‘বট’ শব্দটি, যা নিয়ে সাধারণ ব্যবহারকারীদের মধ্যে রয়েছে বেশ কিছু বিভ্রান্তি। অনেকেই ভুয়া পরিচয়ে খোলা অ্যাকাউন্টকেই ‘বট’ মনে করলেও বাস্তবে ‘বট’ ও ‘ফেক’ অ্যাকাউন্ট এক নয়।
প্রযুক্তিনির্ভর স্বয়ংক্রিয় কার্যক্রম চালানো অ্যাকাউন্ট এবং মানুষের দ্বারা পরিচালিত ভুয়া পরিচয়ের অ্যাকাউন্টের মধ্যে রয়েছে স্পষ্ট পার্থক্য-যা বোঝা জরুরি, বিশেষ করে রাজনৈতিক আলোচনার প্রেক্ষাপটে।
প্রযুক্তির ভাষায় বট হলো এমন একটি সফটওয়্যার প্রোগ্রাম, যা স্বয়ংক্রিয়ভাবে (অটোমেটিক) নির্দিষ্ট কাজ করতে পারে-মানুষের সরাসরি নিয়ন্ত্রণ ছাড়াই বা খুব কম নিয়ন্ত্রণে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ‘বট অ্যাকাউন্ট’ হলো এমন অ্যাকাউন্ট, যা মানুষ নয়, বরং প্রোগ্রাম দিয়ে চালানো হয়। এসব বট অ্যাকাউন্ট একসঙ্গে অনেক পোস্ট করা, লাইক-কমেন্ট দেওয়া, নির্দিষ্ট বার্তা ছড়িয়ে দেওয়া বা কোনো বিষয়কে ট্রেন্ড করানোর মতো কাজ দ্রুত করতে পারে।
বট অ্যাকাউন্ট এবং ফেক অ্যাকাউন্ট-দুটিই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভ্রান্তি তৈরি করতে পারে, তবে এদের প্রকৃতি ও কার্যপ্রণালী একেবারেই ভিন্ন।
ফেক অ্যাকাউন্ট একজন বাস্তব মানুষই তৈরি ও পরিচালনা করে, তবে সেখানে ভুয়া নাম, ছবি বা পরিচয় ব্যবহার করা হয়। এটি পরিচয় গোপন রাখা বা ভিন্ন পরিচয়ে অনলাইনে সক্রিয় থাকার একটি সচেতন কৌশল।
ফলে বট অ্যাকাউন্টের মূল বৈশিষ্ট্য হলো অটোমেশন বা স্বয়ংক্রিয়তা, আর ফেক অ্যাকাউন্টের মূল বৈশিষ্ট্য হলো ভুয়া পরিচয় ব্যবহার করে মানব-নিয়ন্ত্রিত কার্যক্রম পরিচালনা।









