কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তিতে বৈশ্বিক প্রতিযোগিতা তীব্র হওয়ার প্রেক্ষাপটে নেতৃত্বে বড় পরিবর্তন এনেছে অ্যাপল। প্রতিষ্ঠানটি তাদের দীর্ঘদিনের হার্ডওয়্যার প্রধান জন টার্নাসকে নতুন প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) হিসেবে নিয়োগ দিয়েছে।
অ্যাপল জানিয়েছে, আগামী ১ সেপ্টেম্বর থেকে টার্নাস আনুষ্ঠানিকভাবে সিইও হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করবেন। বর্তমান সিইও টিম কুক পদ ছাড়লেও তিনি নির্বাহী চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্বে থাকবেন।
২০০১ সালে অ্যাপলে যোগ দেওয়া টার্নাস কোম্পানির হার্ডওয়্যার উন্নয়ন খাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। বিশেষ করে ম্যাক কম্পিউটার, আইপ্যাড এবং এয়ারপডসের নকশা ও প্রযুক্তিগত উন্নয়নে তার অবদান উল্লেখযোগ্য। যদিও জনসমক্ষে তিনি তুলনামূলক কম পরিচিত, অভ্যন্তরীণভাবে তাকে অ্যাপলের পণ্য উন্নয়ন কৌশলের অন্যতম প্রধান স্থপতি হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
এই পরিবর্তন এমন সময়ে এলো, যখন এআই প্রযুক্তি ঘিরে প্রতিযোগিতা নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে। দীর্ঘদিন বিশ্বের সবচেয়ে মূল্যবান কোম্পানি হিসেবে শীর্ষে থাকা অ্যাপল সম্প্রতি সেই অবস্থান হারিয়েছে এনভিডিয়ার কাছে। বিশ্লেষকদের মতে, এআই খাতে তুলনামূলক ধীর অগ্রগতি অ্যাপলের ভবিষ্যৎ প্রবৃদ্ধিতে চাপ সৃষ্টি করছে।
বিশেষ করে আইফোনে উন্নত এআই প্রযুক্তি সংযোজন এখন কোম্পানির অন্যতম বড় কৌশলগত চ্যালেঞ্জ। বিশ্বের জনপ্রিয় এই ডিভাইসকে আরও বুদ্ধিমান করে তোলা টার্নাসের নেতৃত্বে অগ্রাধিকার পাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এআই উন্নয়নের অংশ হিসেবে অ্যাপল সম্প্রতি তাদের দীর্ঘদিনের প্রতিদ্বন্দ্বী গুগলের সঙ্গে একটি গুরুত্বপূর্ণ চুক্তি করেছে। এই চুক্তির আওতায় গুগলের জেমিনি এআই প্রযুক্তি ব্যবহার করে সিরি ভার্চুয়াল অ্যাসিস্ট্যান্টকে আরও উন্নত করার পরিকল্পনা রয়েছে।
২০১১ সালে চালু হওয়া সিরি সাধারণ মানুষের কাছে এআই প্রযুক্তিকে জনপ্রিয় করে তুললেও এখনো পর্যন্ত অ্যাপল বড় কোনো এআই-নির্ভর সফল পণ্য বাজারে আনতে পারেনি। অন্যদিকে ওপেনএআইয়ের চ্যাটজিপিটি ইতোমধ্যে বিশ্বজুড়ে বিপুল জনপ্রিয়তা অর্জন করেছে।
প্রযুক্তি বিশ্লেষকদের মতে, সিরি এখনও পূর্ণাঙ্গ “এআই এজেন্ট” হিসেবে কাজ করতে সক্ষম হয়নি। এই সীমাবদ্ধতা কাটিয়ে ওঠা এবং শক্তিশালী এআই কৌশল গড়ে তোলাই টার্নাসের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াবে।
এদিকে নতুন সিইও হিসেবে টার্নাসকে শুধু সফটওয়্যার নয়, হার্ডওয়্যার প্রতিযোগিতাতেও অ্যাপলের অবস্থান ধরে রাখতে হবে। মেটার অগমেন্টেড রিয়েলিটি গ্লাস এবং এনভিডিয়ার এআই-ভিত্তিক নতুন পণ্যের কারণে বাজারে প্রতিযোগিতা আরও তীব্র হয়েছে।
বিশ্লেষকদের ধারণা, টার্নাসের নেতৃত্বে অ্যাপল ভবিষ্যতে ভাঁজযোগ্য ফোন, স্মার্ট গ্লাস, ভিআর ডিভাইসসহ নতুন এআই-নির্ভর হার্ডওয়্যার পণ্যে আরও জোর দেবে।
অন্যদিকে, টিম কুককে অ্যাপলের ইতিহাসে অন্যতম সফল সিইও হিসেবে বিবেচনা করা হয়। তার নেতৃত্বে কোম্পানির বাজারমূল্য প্রায় ৩.৬ ট্রিলিয়ন ডলার বৃদ্ধি পেয়েছে এবং একটি শক্তিশালী বৈশ্বিক সাপ্লাই চেইন গড়ে উঠেছে।
কোম্পানির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ভবিষ্যতেও কৌশলগত সিদ্ধান্তে টিম কুক সক্রিয় ভূমিকা রাখবেন। একই সঙ্গে অভ্যন্তরীণ কাঠামোতেও পরিবর্তন আনা হয়েছে, যেখানে চিপ ও সেন্সর ডিজাইনের নেতৃত্বে নতুন দায়িত্ব বণ্টন করা হয়েছে।
সূত্র: রয়টার্স









