দেশে মোবাইল ফোন ব্যবহারের বিস্তার প্রায় সর্বজনীন পর্যায়ে পৌঁছালেও স্মার্টফোন ব্যবহারে জেলাভিত্তিক বৈষম্য স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। সাম্প্রতিক এক জরিপে দেখা গেছে, দেশের কিছু জেলা স্মার্টফোন ব্যবহারে এগিয়ে থাকলেও উত্তরাঞ্চল ও উপকূলীয় অঞ্চলের কয়েকটি জেলা এখনও পিছিয়ে রয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) প্রকাশিত বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস)-এর ‘আইসিটি এক্সেস অ্যান্ড ইউজ সার্ভে ২০২৪-২৫’-এর তথ্য বিশ্লেষণে এই চিত্র উঠে এসেছে।
জরিপ অনুযায়ী, খানা পর্যায়ে স্মার্টফোন ব্যবহারে শীর্ষে রয়েছে ফেনী জেলা। এর পরেই রয়েছে কুমিল্লা, চট্টগ্রাম, নোয়াখালী ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া। এছাড়া গাজীপুর, নারায়ণগঞ্জ, ঢাকা, চাঁদপুর ও শরীয়তপুর শীর্ষ দশে জায়গা করে নিয়েছে।
অন্যদিকে, স্মার্টফোন ব্যবহারে পিছিয়ে থাকা জেলাগুলোর তালিকায় রয়েছে পঞ্চগড়, কুড়িগ্রাম, ঝালকাঠি, শেরপুর ও নীলফামারী। এসব অঞ্চলে স্মার্টফোনের ব্যবহার তুলনামূলক কম হওয়ায় ডিজিটাল সেবায় প্রবেশাধিকারও সীমিত রয়ে গেছে।
তবে সাধারণ মোবাইল ফোন ব্যবহারের ক্ষেত্রে ভিন্ন চিত্র দেখা গেছে। খানা পর্যায়ে মোবাইল সংযোগে শীর্ষে রয়েছে কিশোরগঞ্জ। এর পরেই রয়েছে লক্ষ্মীপুর, বান্দরবান, সিরাজগঞ্জ ও গোপালগঞ্জ।
অন্যদিকে, মোবাইল সংযোগে পিছিয়ে থাকা জেলাগুলোর মধ্যে রয়েছে নড়াইল, মেহেরপুর, রংপুর ও বরিশাল।
বিশ্লেষণে দেখা যায়, স্মার্টফোন ব্যবহারে এই বৈষম্যের পেছনে মূল কারণ হিসেবে কাজ করছে আয় বৈষম্য, ডিভাইসের সহজলভ্যতা এবং ডিজিটাল দক্ষতার ঘাটতি। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বৈষম্য দূর করা না গেলে ডিজিটাল সেবা ও ইন্টারনেটভিত্তিক অর্থনীতিতে সবার অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা কঠিন হয়ে পড়বে।









