বাংলাদেশে গ্যাস সংকট ও জীবনযাত্রার পরিবর্তনের সঙ্গে তাল মিলিয়ে রান্নাঘরেও এসেছে আধুনিকতার ছোঁয়া। সময় বাঁচানো, নিরাপত্তা এবং দক্ষ রান্নার সুবিধার কারণে অনেকেই এখন ঝুঁকছেন বৈদ্যুতিক চুলার দিকে। বিশেষ করে ইন্ডাকশন ও ইনফ্রারেড চুলা-এই দুই ধরনের প্রযুক্তি নিয়ে ক্রেতাদের আগ্রহ বাড়ছে প্রতিদিনই।
তবে দেখতে প্রায় একই রকম হলেও কাজের ধরন, বিদ্যুৎ খরচ এবং ব্যবহারের সুবিধায় রয়েছে উল্লেখযোগ্য পার্থক্য। তাই আপনার রান্নাঘরের জন্য কোনটি বেশি উপযোগী হবে, তা জানতে আগে জেনে নেওয়া দরকার এই দুই চুলার বৈশিষ্ট্য ও সুবিধা-অসুবিধা।
ইন্ডাকশন চুলা মূলত ইলেকট্রো-ম্যাগনেটিক ফিল্ড বা তড়িৎ-চৌম্বকীয় শক্তির মাধ্যমে কাজ করে। এতে কোনো আগুনের শিখা তৈরি হয় না, সরাসরি রান্নার পাত্রটি গরম হয়।
সুবিধা
১. সবচেয়ে দ্রুত রান্না করা যায়।
২. তাপ অপচয় হয় না বললেই চলে, তাই বিদ্যুৎ খরচ অনেক কম।
৩. ইন্ডাকশন চুলার ওপর হাত লাগলেও পুড়ে যাওয়ার ভয় নেই (নিরাপদ)।
অসুবিধা
১. এই চুলায় যেকোনো হাড়ি ব্যবহার করা যায় না। শুধুমাত্র স্টিল বা কাস্ট আয়রন জাতীয় 'ম্যাগনেটিক' তলা বিশিষ্ট হাড়ি লাগে।
২.অ্যালুমিনিয়াম বা মাটির পাতিল এতে চলবে না।
৩.সাধারণ চুলার চেয়ে দাম কিছুটা বেশি
৪.জটিল কার্যপ্রণালীর কারণে মেরামতে খরচ বেশি হতে পারে
ইনফ্রারেড চুলা
ইনফ্রারেড চুলা হ্যালোজেন ল্যাম্প বা মেটাল হিটিং এলিমেন্ট ব্যবহার করে তাপ তৈরি করে। এতে রান্নার সময় লাল রঙের আভা দেখা যায়।
সুবিধা
১. যেকোনো হাড়ি ব্যবহার করা যায়: অ্যালুমিনিয়াম, স্টিল, সিরামিক,কাচঁ এমনকি মাটির পাতিলও ব্যবহার করা সম্ভব।
২. রুটি সেঁকা বা সরাসরি আগুনের মতো কাজগুলো এতে কিছুটা করা যায়।
৩.উচ্চ তাপমাত্রার কারণে দ্রুত রান্না হয়, যার ফলে সময় বাঁচে।
৪.এই চুলে কম আঁচে রান্না, ভাজাভাজি, বা স্যুপ তৈরির জন্য নির্দিষ্ট মোড থাকে।
৫.সমতল গ্লাস সারফেস হওয়ায় সহজে পরিষ্কার করা যায়।
অসুবিধা
১. ইন্ডাকশনের তুলনায় বিদ্যুৎ খরচ কিছুটা বেশি।
২. রান্না শেষ হওয়ার বেশ কিছুক্ষণ পরও চুলার ওপরের অংশ অনেক গরম থাকে, যা সাবধানে নাড়াচাড়া করতে হয়।
আপনার কাছে যদি আগে থেকেই স্টিল বা ইনজেকশন ফ্রেন্ডলি পাত্রের সংগ্রহ থাকে এবং আপনি সর্বোচ্চ বিদ্যুৎ সাশ্রয় চান, তবে ইন্ডাকশন চুলা বেছে নিন। অন্যদিকে, যদি বিদ্যমান হাড়ি-পাতিল পরিবর্তন না করে সব ধরণের রান্নার সুবিধা পেতে চান, তবে ইনফ্রারেড চুলা হবে আপনার জন্য আদর্শ।
মনে রাখবেন, কেনার আগে অবশ্যই চুলার ওয়াট, বিল্ড কোয়ালিটি এবং ওয়ারেন্টি পলিসি ভালোভাবে দেখে নেবেন। একটি সঠিক সিদ্ধান্ত আপনার প্রতিদিনের রান্নার অভিজ্ঞতাকে করবে আরও আরামদায়ক ও আধুনিক।
বাংলাদেশে সেরা দামে ভালো চুলা কোথায় পাবেন?
বাজার যাচাই করলে দেখা যায়, মানভেদে ইন্ডাকশন চুলার দামে অনেক তারতম্য হতে পারে। বিশেষ করে গুণগত মান এবং বিক্রয়োত্তর সেবার বিষয়টি মাথায় রাখা জরুরি। বর্তমানে বাংলাদেশে টেক-গ্যাজেট এবং হোম অ্যাপ্লায়েন্সের বাজারে স্টার টেক তাদের সাশ্রয়ী মূল্যের জন্য বেশ আলোচিত। তারা বিভিন্ন নামী ব্র্যান্ডের ইন্ডাকশন ও ইনফ্রারেড চুলায় আকর্ষণীয় ডিসকাউন্ট প্রদান করছে, যা ক্রেতাদের বাজেটের মধ্যে সেরা পণ্যটি বেছে নিতে সাহায্য করে।
বিশেষ করে বাজেট-ফ্রেন্ডলি ক্রেতাদের জন্য স্টার টেক অনলাইন শপে ৫,৫০০ টাকা থেকে শুরু করে বিভিন্ন রেঞ্জের ইন্ডাকশন চুলা পাওয়া যাচ্ছে, যা বাজারের অন্যান্য রিটেইল শপের তুলনায় বেশ প্রতিযোগিতামূলক। এছাড়া অথেন্টিক প্রোডাক্টের সাথে ওয়ারেন্টি সুবিধা থাকায় বর্তমানে তারা ক্রেতাদের পছন্দের তালিকায় শীর্ষে রয়েছে।









