দেশের চলমান জ্বালানি সংকটের ‘যৌক্তিক সমাধান’ খুঁজতে জাতীয় স্বার্থে যৌথভাবে কাজ করার লক্ষ্যে ১০ সদস্যের একটি যৌথ কমিটি গঠনের প্রস্তাব দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একইসঙ্গে বিরোধী দলকেও পাঁচজনের নাম দিতে আহ্বান জানিয়েছেন সংসদ নেতা।
বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) বিকেলে সংসদ অধিবেশনে জ্বালানি পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনায় সরকারি দলের পক্ষ থেকে পাঁচ সদস্যের নাম ঘোষণা করেন প্রধানমন্ত্রী।
এসময় তিনি বলেছেন, প্রস্তাবিত কমিটির প্রধান হবেন জ্বালানি মন্ত্রী ইকবাল মাহমুদ টুকু এবং এতে সরকার ও বিরোধী দল থেকে সমানসংখ্যক পাঁচজন করে সদস্য থাকবে।
প্রধানমন্ত্রী আরও জানান, বিরোধী দলের প্রস্তাব ও পরামর্শ এই কমিটির মাধ্যমে সরকারের কাছে যাবে। সেখানে বাস্তবসম্মত কিছু থাকলে সরকার তা কার্যকর করার উদ্যোগ নেবে।
তিনি বলেছেন, এটি একটি বৈশ্বিক সমস্যা। যার প্রভাব সারা বিশ্বে পড়েছে। তবে বাংলাদেশের মানুষের স্বার্থে সরকার যে কারও সঙ্গে আলোচনায় বসতে প্রস্তুত।
সংসদ নেতা জানান, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল সকল সময় দেশের স্বার্থে দেশের মানুষের স্বার্থে যেকোন আলোচনা যে কারো সাথে করতে প্রস্তুত রয়েছে। আমরা সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছি যে আমরা আমাদের পক্ষ থেকে পাঁচ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করছি। আমি আপনার মাধ্যমে বিরোধীদলীয় নেতা এবং বিরোধী দলকে অনুরোধ করব উনারাও যদি পাঁচ জনের নাম দেন তাহলে এই ১০ জন ব্যক্তি বসে এই বিষয়গুলো আলোচনা করতে পারে।
তিনি আরও স্পষ্ট করেন, কোন পরামর্শ থাকলে এই কমিটির মাধ্যমে সেটি সরকারের কাছেও আসলো এবং সরকার সেটার মধ্যে কোন বাস্তবতা থাকলে অবশ্যই সেটি কার্যকর করার উদ্যোগ গ্রহণ করবে।
এর আগে গতকাল বুধবার জাতীয় সংসদে জ্বালানি পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনায় বিরোধীদলীয় নেতা সরকারের সঙ্গে বসে সমাধান খোঁজার প্রস্তাব দেন।
তিনি জানান, বিরোধী দলের পক্ষ থেকেও কিছু পরামর্শ আছে, সেগুলো নিয়ে সরকার ও বিরোধী দল একসঙ্গে কাজ করতে পারে।
আজ বৃহস্পতিবার সেই প্রস্তাবের জবাবেই সংসদ নেতা প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান পাঁচ সদস্যের নাম ঘোষণা করেন এবং বিরোধী দলকে সমসংখ্যক সদস্য দিতে অনুরোধ জানান।
সংসদ নেতার এই ঘোষণার পর বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমাম বিষয়টিকে ইতিবাচকভাবে নেওয়ার জন্য প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেছেন, আমরা আশা করি এই সংসদ জাতীয় সকল সমস্যা সমাধানের কেন্দ্রবিন্দু হবে ইনশাল্লাহ। আমরা শীঘ্রই নামগুলা পেশ করব।
সরকারি দলের পক্ষ থেকে ঘোষিত পাঁচ সদস্য হলেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ, প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, সংসদ সদস্য এবিএম আশরাফ উদ্দিন নিজান, মইনুল ইসলাম খান শান্ত এবং মিয়া নুরুদ্দিন আহাম্মেদ অপু।









