দিনাজপুরের বড়পুকুরিয়া তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের ৩টি ইউনিটের মধ্যে সচল ১নং ইউনিটের যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে বিদ্যুত উৎপাদন বন্ধ হয়ে গেছে। কয়লার সঙ্গে পাথর আসায় বয়লার পাইপ ফেটে এই পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
বুধবার (২২ এপ্রিল) রাত ১০টার দিকে ১২৫ মেগাওয়াট উৎপাদন ক্ষমতাসম্পন্ন ১ নম্বর ইউনিটটি বন্ধ হয়ে যায়। বিদ্যুৎ কেন্দ্রটির দুটি ইউনিট আগে থেকেই বন্ধ ছিল। চালু থাকা একটি ইউনিট বন্ধ হয়ে যাওয়ায় এই কেন্দ্রের বিদ্যুৎ উৎপাদন সম্পূর্ণভাবে বন্ধ হয়ে গেল।
এতে করে বর্তমানে বড়পুকুরিয়া তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের উৎপাদন পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেল।বিদ্যুৎকেন্দ্রের তিনটি ইউনিটের সবকটিরই উৎপাদন কার্যক্রম বন্ধ হয়ে পড়ায় বিদ্যুৎ বিভ্রাটে পড়েছে দিনাজপুরসহ উত্তরের ৮ জেলা।
বিষয়টি নিশ্চিত করে বড়পুকুরিয়া তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের প্রধান প্রকৌশলী আবু বক্কর সিদ্দিক বলেছেন, কয়লার সঙ্গে পাথর আসায় ১নং ইউনিটের বয়লার পাইপ ও কুলিং ফ্যান ভেঙ্গে গেছে। এতে বুধবার রাত ১০টা ১০ মিনিটে পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায় তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের উৎপাদন।
বৃহস্পতিবার দুপুরে গণমাধ্যমকে তিনি বলেছেন, মেরামত কাজ চলছে, এটি মেরামত করে আবার উৎপাদন শুরু করতে ৪ থেকে ৫ দিন সময় লাগতে পারে। এর আগে দীর্ঘদিন থেকেই বন্ধ রয়েছে ওই বিদ্যুৎ কেন্দ্রের ১২৫ মেগাওয়াট উৎপাদন ক্ষমতাসম্পন্ন ২ নম্বর ইউনিট এবং ২৭৫ উৎপাদন ক্ষমতাসম্পন্ন ৩ নম্বর ইউনিট।
বিদ্যুৎ কেন্দ্র সূত্রে জানা যায়, বড়পুকুরিয়া তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্রের ৩টি ইউনিট রয়েছে, যার মোট বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা ৫২৫ মেগাওয়াট। এর মধ্যে প্রথম ও দ্বিতীয় ইউনিট ১২৫ মেগাওয়াট করে মোট ২৫০ মেগাওয়াট। আর তৃতীয় ইউনিটটি ২৭৫ মেগাওয়াট। এর মধ্যে তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের ১২৫ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন দ্বিতীয় ইউনিটটি ২০২০ সালের নভেম্বর থেকে বন্ধ রয়েছে। আর ২৭৫ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন তৃতীয় ইউনিটটি যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে গত বছরের ১ নভেম্বর থেকে বন্ধ আছে।
একদিকে বিদ্যুৎকেন্দ্র বন্ধ, অন্যদিকে বিদ্যুত সরবরাহে ঘাটতি। এতে মারাত্মক ভোগান্তিতে পড়েছেন উত্তরাঞ্চলের মানুষ। জাতীয় গ্রিড থেকেও মিলছে না চাহিদামাফিক বিদ্যুৎ। এক সপ্তাহ ধরে বেড়েছে ভ্যাপসা গরম। ৩৫ থেকে ৩৭ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পুড়ছে অঞ্চলটি। এই গরমে সেখানে বেড়েছে বিদ্যুৎ বিভ্রাট। সকাল, ভোর কিংবা গভীর রাতে চলছে এই বিদ্যুৎ বিভ্রাট ।









