ইরান যুদ্ধ পরিস্থিতি এবং হরমুজ প্রণালি ঘিরে চলমান অস্থিরতার কারণে বিশ্ব বাণিজ্যে নতুন করে চাপ তৈরি হয়েছে। এর সরাসরি প্রভাব পড়ছে আন্তর্জাতিক তেলের বাজারে, পাশাপাশি এশিয়ার বিভিন্ন দেশের মুদ্রাতেও দেখা দিচ্ছে বড় ধরনের দুর্বলতা। বিশেষ করে আমদানিনির্ভর অর্থনীতিগুলো এখন সবচেয়ে বেশি ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে।
কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরার তথ্য অনুযায়ী, তেলের দাম বৃদ্ধির কারণে ইন্দোনেশিয়ার মুদ্রা রুপিয়াহ ইতিহাসের সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে এসেছে। বর্তমানে প্রতি মার্কিন ডলারের বিপরীতে এর মান দাঁড়িয়েছে ১৭ হাজার ৩১৫ রুপিয়াহ, যা দেশটির ইতিহাসে সর্বনিম্ন রেকর্ড।
এই পরিস্থিতি সামাল দিতে ইন্দোনেশিয়ার কেন্দ্রীয় ব্যাংক ‘ব্যাংক ইন্দোনেশিয়া’ জানিয়েছে, রুপিয়াহকে স্থিতিশীল রাখতে তারা প্রয়োজনীয় সব ধরনের পদক্ষেপ গ্রহণ করবে। পাশাপাশি মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে নীতিগত পরিবর্তনের বিষয়েও কাজ চলছে।
তথ্য অনুযায়ী, ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে রুপিয়াহর মান ৩ শতাংশের বেশি কমে গেছে। বর্তমানে এশিয়ার মুদ্রাগুলোর মধ্যে দুর্বল পারফরম্যান্সের দিক থেকে এটি ভারতের রুপির পরেই অবস্থান করছে।
একই ধরনের চাপ দেখা যাচ্ছে অন্যান্য দেশেও। ফিলিপাইনের পেসো নেমে এসেছে ৬০.৫২৪-এ, যা দুই সপ্তাহের মধ্যে সর্বনিম্ন। থাইল্যান্ডের বাতও দুর্বল হয়ে প্রতি ডলারে ৩২.৪৪-এ নেমেছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, যুদ্ধবিরতির অনিশ্চয়তা এবং দীর্ঘমেয়াদি উচ্চ তেলের দাম এ অঞ্চলের অর্থনীতিতে আরও বড় চাপ তৈরি করতে পারে। বাংলাদেশেও এর প্রভাব পড়ছে, যদিও এখনো মুদ্রার বিনিময় হারে বড় ধরনের পরিবর্তন দেখা যায়নি।









