পাবনার ঈশ্বরদীতে অবস্থিত রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিটে জ্বালানি সংযোজনের পথে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হয়েছে। বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ কমিশনিং লাইসেন্স প্রদান করেছে, যা জ্বালানি লোডিং প্রক্রিয়া শুরু করার জন্য প্রয়োজনীয় প্রধান অনুমোদন।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, চলতি এপ্রিলের শেষ সপ্তাহে ইউরেনিয়াম জ্বালানি লোডিং কার্যক্রমের উদ্বোধন হতে পারে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, বছরের শেষ নাগাদ উৎপাদিত বিদ্যুৎ ধাপে ধাপে জাতীয় গ্রিডে যুক্ত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
নিউক্লিয়ার পাওয়ার প্ল্যান্ট কোম্পানি বাংলাদেশ লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ড. জাহেদুল হাসান জানিয়েছেন, প্রকল্পের অধিকাংশ প্রস্তুতিমূলক কাজ ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু করার চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।
লাইসেন্স অনুমোদনের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন প্রকল্প পরিচালক কবীর হোসেন। তিনি বলেন, “কমিশনিং লাইসেন্স পাওয়ার ফলে এখন আর কোনো বড় বাধা নেই। সরকার উদ্বোধনের সময় নির্ধারণ করলে দ্রুতই জ্বালানি লোডিং শুরু করা যাবে।”
অন্যদিকে বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান মাহমুদুল হাসান জানান, পূর্বনির্ধারিত ৭ এপ্রিলের উদ্বোধন কিছু কারিগরি জটিলতার কারণে স্থগিত করা হয়েছিল। তবে বর্তমানে নিরাপত্তা নিশ্চিত করে সব সমস্যার সমাধান করা হয়েছে এবং পরিস্থিতি অনুকূলে থাকায় লাইসেন্স প্রদান করা হয়েছে।
এদিকে নিউক্লিয়ার পাওয়ার প্ল্যান্ট কোম্পানি বাংলাদেশ লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ড. জাহেদুল হাসান জানিয়েছেন, জ্বালানি প্রবেশের পর প্রায় ছয় মাস পরীক্ষামূলক উৎপাদন চালানো হবে। এই সময়ের মধ্যে বিভিন্ন ধাপে কারিগরি পরীক্ষা ও আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী অনুমোদন নিতে হবে। এ কারণে সেপ্টেম্বরের আগে বাণিজ্যিক উৎপাদন শুরু হওয়ার সম্ভাবনা কম বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
বিশেষজ্ঞদের মতে, নির্ধারিত প্রক্রিয়া সফলভাবে সম্পন্ন হলে বছরের শেষের দিকেই রূপপুর থেকে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু হবে, যা দেশের জ্বালানি খাতে একটি বড় অগ্রগতি হিসেবে বিবেচিত হবে।









