৭ হাজার কোটির নেগেটিভ ইক্যুইটি সামলাতে বিএসইসির বড় অ্যাকশন
প্রকাশ:

বিস্তারিত
শেয়ারবাজারের দীর্ঘস্থায়ী সমস্যা 'নেগেটিভ ইক্যুইটি'র বিপরীতে নিরাপত্তা সঞ্চিতি বা প্রভিশন রাখার সময়সীমা বাড়ানোর আবেদন নাকচ করে দিয়েছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। আবেদন বাতিল হওয়া তিনটি ব্রোকারেজ হাউসকে অবিলম্বে প্রভিশন সংরক্ষণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া আরও দুটি হাউসকে তাদের দেওয়া পরিকল্পনা পুনর্গঠন করে জমা দিতে বলেছে কমিশন।
আবেদন বাতিল ও নির্দেশ
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, এএএ ফাইন্যান্স অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেড, বি অ্যান্ড বি এসএস ট্রেড ইন্টারন্যাশনাল এবং এলিগ্যান্ট স্টক অ্যান্ড সিকিউরিটিজ লিমিটেডের আবেদন নামঞ্জুর করেছে বিএসইসি। অন্যদিকে, আইএফআইসি ইনভেস্টমেন্ট এবং এনএলআই সিকিউরিটিস লিমিটেডের কাছে পুনরায় পরিকল্পনা ও সুদের বিস্তারিত তথ্য চাওয়া হয়েছে। বিএসইসি স্পষ্ট জানিয়েছে, আর্থিক শৃঙ্খলা নিশ্চিত করতে নির্ধারিত সময়েই প্রভিশন সংরক্ষণ করতে হবে।
উদ্বেগের কারণ নেগেটিভ ইক্যুইটি
বিনিয়োগকারীদের মার্জিন ঋণের বিপরীতে অনাদায়ী ক্ষতির পরিমাণই হলো নেগেটিভ ইক্যুইটি। ২০১০ সালের ধসের পর থেকে এই সমস্যা প্রকট হয়। সর্বশেষ তথ্যমতে, ২০২৫ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত বাজারে মোট নেগেটিভ ইক্যুইটির পরিমাণ ছিল ৭ হাজার ৩৫১ কোটি ৮৬ লাখ টাকা। যা গত এক বছরে প্রায় ৫০০ কোটি টাকা কমলেও এখনো বাজারের জন্য বড় বোঝা হয়ে আছে।
ডিবিএ-র কর ছাড়ের প্রস্তাব
এদিকে ক্ষতিগ্রস্ত বিনিয়োগকারীদের বাজারে ফেরাতে নেগেটিভ ইক্যুইটি অ্যাকাউন্টে বড় ধরনের কর ছাড়ের প্রস্তাব দিয়েছে ডিএসই ব্রোকার্স অ্যাসোসিয়েশন (ডিবিএ)। এনবিআর-কে দেওয়া এই প্রস্তাবে ক্যাপিটাল গেইন, ক্যাশ ডিভিডেন্ড এবং ইন্টারেস্ট ওয়েভারের ওপর পূর্ণ কর অব্যাহতির সুপারিশ করা হয়েছে।
নিয়ম মানতে ব্যর্থ হাউসগুলোর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা
জানা গেছে, ২১টি ব্রোকারেজ হাউস গত ডিসেম্বর পর্যন্ত তাদের নেগেটিভ ইক্যুইটি সংক্রান্ত মাসিক প্রতিবেদন জমা দিতে ব্যর্থ হয়েছে। বিএসইসি একে গুরুতর অনিয়ম হিসেবে দেখছে এবং এ বিষয়ে ডিএসই-কে দায়ীদের শনাক্ত করে দ্রুত ব্যাখ্যা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে।








