কুমিল্লার হোমনায় কয়েকদিন ধরে তীব্র গরমের মধ্যে বিদ্যুৎ সরবরাহ কম থাকায় দিনে রাতে বেশিরভাগ সময় বিদ্যুৎবিহীন থাকতে হচ্ছে উপজেলাবাসীদের। এর বড় প্রভাব পড়ছে চলমান এসএসসি পরীক্ষার্থীদের ওপর এবং পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে ব্যবসা-বাণিজ্যও।
এতে পরীক্ষার্থীসহ বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে জনজীবন। কৃষি, শিল্প, ব্যবসা-বাণিজ্য থেকে শুরু করে শিক্ষাক্ষেত্র সবখানেই এর নেতিবাচক প্রভাব স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।
এসএসসি পরীক্ষার্থী ফারজানা বলেন, দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় রাতে ঠিকমতো পড়াশোনা করতে পারছি না। প্রচণ্ড গরমে ঘুমের সমস্যা হওয়ায় মনোযোগ কমে যাচ্ছে। যা পরীক্ষায় বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরীক্ষার সময় হলে বিদ্যুৎ চলে গেলে লেখালেখিতে সমস্যা হচ্ছে। এতে আমাদের ফলাফলেও বিরূপ প্রভাব পড়বে।
আছাদপুর বাসিন্দা রোমান বলেন, ঘন ঘন ও দীর্ঘস্থায়ী লোডশেডিংয়ের কারণে তীব্র গরমে জনজীবন অতিষ্ঠ করে তুলেছে। বিশেষ করে শিক্ষার্থীরা বিপাকে পড়েছে সবচেয়ে বেশি। সারাদেশে এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষা শুরু হয়েছে। বিদ্যুতের লোডশেডিংয়ের কারণে শিক্ষার্থীদের পড়ালেখায় চরম বিঘ্ন ঘটছে।
মো. মনির হোসেন পেশায় একজন ব্যাটারিচালিত অটোরিকশাচালক। তিনি বলছিলেন, বিদ্যুতের লোডশেডিংয়ের কারণে আয়রোজগার কমে গেছে। কারণ এত ঘন ঘন বিদ্যুৎ যাওয়া-আসা করে যে গাড়ির ব্যাটারিই ঠিকমতো চার্জ হয় না।
হোমনা আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক লুৎফুর রহমান বলেন, গুরুত্বপূর্ণ এই সময়ে নিয়মিত পড়াশোনা ব্যাহত হচ্ছে লোডশেডিংয়ের কারণে। নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ না থাকায় মনোযোগ ধরে রাখা কঠিন হয়ে পড়েছে। এ পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে পরীক্ষার ফলাফলেও নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষের প্রতি জোর পরীক্ষার এই সময়ে লোডশেডিং কমিয়ে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি।
এই বিষয়ে কুমিল্লা পল্লী বিদ্যুৎ-৩ হোমনা এর ডিজিএম মৃণাল কান্তি দাশ জানান, চাহিদার তুলনায় বিদ্যুৎ সরবরাহ কম থাকায় এবং সিস্টেমের সীমাবদ্ধতার কারণে নিয়মিত লোডশেডিং দিতে হচ্ছে।









