রাজধানীর কামরাঙ্গীরচর এলাকায় টয়লেটের ভেতর থেকে এক শ্রমিকের গলাকাটা মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। নিহতকে গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হলেও শেষ পর্যন্ত তাকে বাঁচানো যায়নি।
বুধবার (২২ এপ্রিল) দিবাগত রাত সোয়া ১টার দিকে কামরাঙ্গীরচরের লেকপাড় এলাকায় একটি মেটাডোর কোম্পানির শ্রমিক হোস্টেলে এই ঘটনা ঘটে।
নিহত শ্রমিকের নাম মো. ইয়াকুব আলী। তিনি ওই প্রতিষ্ঠানের একজন শ্রমিক ছিলেন। তার বাড়ি গজারিয়া উপজেলার আড়ালিয়া গ্রামে। তার পিতার নাম আব্দুল মালেক।
কোম্পানির সহকারী ব্যবস্থাপক বজলুর রহমান জানান, রাতের দিকে খবর পেয়ে হোস্টেলের টয়লেট থেকে ইয়াকুব আলীকে গলাকাটা গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। দ্রুত তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল-এ নেওয়া হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। তিনি বলেন, এ ঘটনার পেছনে কারা জড়িত, সে বিষয়ে তাদের কাছে কোনো তথ্য নেই।
এদিকে হাসপাতালের পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ পরিদর্শক মো. ফারুক চিকিৎসকের বরাত দিয়ে মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, মরদেহ হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে এবং বিষয়টি সংশ্লিষ্ট থানাকে জানানো হয়েছে।
ঘটনা প্রসঙ্গে কামরাঙ্গীরচর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গোলাম ফারুক জানান, ওই শ্রমিককে হোস্টেলের বাথরুমে গলাকাটা অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখা যায়। কোম্পানির লোকজন তাকে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে গেলেও শেষ পর্যন্ত তিনি মারা যান।
তিনি আরও বলেন, ঘটনাস্থল থেকে রক্তাক্ত একটি ব্লেড উদ্ধার করা হয়েছে। নিহত শ্রমিকের ওই রাতে ডিউটি থাকার কথা থাকলেও তিনি রাত ১টার দিকে হোস্টেলে ফিরে আসেন। পরে গোঙানির শব্দ শুনে নিরাপত্তাকর্মীরা সেখানে গিয়ে তাকে রক্তাক্ত অবস্থায় দেখতে পান।
এই ঘটনার পেছনে হত্যাকাণ্ড নাকি অন্য কোনো কারণ রয়েছে তা খতিয়ে দেখতে পুলিশ ইতোমধ্যে তদন্ত শুরু করেছে। একাধিক টিম কাজ করছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। প্রকৃত ঘটনা উদঘাটনে জোর চেষ্টা চলছে।









