রমজান ও ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে দেশে প্রবাসী আয়ের (রেমিট্যান্স) ঢল নেমেছে। চলতি ফেব্রুয়ারি মাসের প্রথম ১৮ দিনেই প্রবাসীরা ২০০ কোটি (২ বিলিয়ন) মার্কিন ডলারের বেশি রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন। বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, রেমিট্যান্স প্রবাহের এই ঊর্ধ্বমুখী ধারা অব্যাহত থাকলে মাস শেষে তা ৩ বিলিয়ন ডলারের মাইলফলক ছাড়িয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পরিসংখ্যান বলছে, গত জানুয়ারি মাসে ৩.১৭ বিলিয়ন ডলার রেমিট্যান্স এসেছিল, যা দেশের ইতিহাসে তৃতীয় সর্বোচ্চ। চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছর এর ১ জুলাই থেকে ১৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত মোট রেমিট্যান্স এসেছে ২১.৫৬ বিলিয়ন ডলার। এটি গত অর্থবছর এর একই সময়ের (১৭.৬৩ বিলিয়ন ডলার) তুলনায় ২২.৩ শতাংশ বেশি। উল্লেখ্য, গত বছরের মার্চে ঈদুল ফিতরের আগে সর্বোচ্চ ৩.২৯ বিলিয়ন ডলার রেমিট্যান্স আসার রেকর্ড রয়েছে।
রেমিট্যান্সের এই শক্তিশালী প্রবাহ দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বৃদ্ধিতে বড় ভূমিকা রাখছে। গত ১৭ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত দেশের মোট রিজার্ভ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩৪.৫৪ বিলিয়ন ডলারে। তবে আইএমএফ-এর বিপিএম-৬ পদ্ধতি অনুযায়ী নিট রিজার্ভের পরিমাণ বর্তমানে ২৯.৮৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। হুন্ডি প্রতিরোধে কড়াকড়ি এবং ব্যাংকিং চ্যানেলে ডলারের স্থিতিশীল বিনিময় হারের কারণে প্রবাসীরা এখন বৈধ পথে টাকা পাঠাতে উৎসাহিত হচ্ছেন।
ব্যাংকিং খাতের বিশেষজ্ঞ ও কর্মকর্তারা বলছেন, রমজান মাসে পরিবারের বাড়তি খরচ মেটাতে প্রবাসীরা সাধারণত বেশি অর্থ দেশে পাঠান। এছাড়া ব্যাংকিং খাতের ওপর বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফিরে আসা এবং ডলারের রেট স্থিতিশীল থাকাও এই জোয়ারের অন্যতম কারণ। রেমিট্যান্সের এই ধারাবাহিকতা বজায় থাকলে দেশের সামষ্টিক অর্থনীতিতে আরও স্বস্তি ফিরবে বলে আশা করা হচ্ছে।









