চাঁদপুরের ৫ রাষ্ট্রায়ত্ত্ব ব্যাংকে চলতি অর্থবছরের ২০২১-২২ বছরের ডিসেম্বর পর্যন্ত ৩ লাখ ৬৫ হাজার প্রবাসী থেকে ১ হাজার ৫৬৭ কোটি ৪ লাখ টাকার বৈদেশিক রেমিট্যান্স অর্জন করেছে। চাঁদপুরে ৫ রাষ্ট্রায়ত্ত্ব ব্যাংকের আঞ্চলিক অফিস এ তথ্য জানিয়েছে।
প্রবাসীদের শ্রমের বিনিময়ে পাঠানো রেমিটেন্সে জেলার প্রায় দু’শতাধিক ব্যাংক শাখা ও কয়েক শতাধিক শপিংমলে অর্থের তারল্য সৃষ্টি করছে। জেলায় প্রবাসীদের নিজ নিজ বাড়ি বা ভবন, ব্যবসা-বাণিজ্যে, শিক্ষা, কৃষি, স্ব-স্ব এলাকায় অবকাঠামোর উন্নয়ন, মসজিদ, মাদ্রাসা ও এতিমখানার অবকাঠামোগত ব্যাপক উন্নয়ন ক্ষেত্রে চিত্র পাল্টে দিয়েছে প্রবাসীদের বৈদেশিক রেমিট্যান্স।
প্রাপ্ত তথ্যমতে, সোনালী ব্যাংকের ২০ শাখায় ২০২১-২২ এর ডিসেম্বর পর্যন্ত ৩৫৭ কোটি টাকার বৈদেশিক রেমিট্যান্স, জনতা ব্যাংকের ১৫ শাখায় ২৫৮ কোটি ৬২ লাখ টাকার বৈদেশিক রেমিট্যান্স, অগ্রণী ব্যাংকের ২১টি শাখায় ৬৬৩ কোটি টাকা, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের ২৮ শাখায় ৬১ কোটি ৩১ লাখ টাকা, রূপালী ব্যাংকের ১৩টি শাখায় ২২৭ কোটি ১১ লাখ টাকার রেমিট্যান্স অর্জন করে।
চাঁদপুর জনশক্তি ও কর্মসংস্থান ব্যুরোর তথ্যমতে, পৃথিবীর ১৬২টি দেশে ১ কোটি ২০ লাখ বাংলাদেশি প্রবাসী রয়েছে। প্রবাসীদের সংখ্যার দিক থেকে দেশের অন্যান্য জেলার মধ্যে চাঁদপুরের অবস্থান ৬ষ্ঠ।
চাঁদপুরের জনশক্তি ও কর্মসংস্থান কার্যালয় সূত্র মতে, মধ্যপ্রাচ্যসহ পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে চাঁদপুরের বৈধ ৩ লাখ ৬৫ হাজার শ্রমজীবী নিজ নিজ কর্মস্থল থেকে তাদের নিকটতম স্বজনদের কাছে ব্যাংক ও অন্যান্য এজেন্সির মাধ্যমে র্যামিটেন্স প্রেরণ করেন। অবৈধ বা বিকাশ বা অন্যান্যভাবে রয়েছে আরো অসংখ্য রেমিটেন্স অর্জন যার কোনো পরিসংখ্যান জানা সম্ভব হয়নি। চাঁদপুরের প্রবাসীরা প্রতিমাসে বিভিন্ন অর্থলগ্নী আন্তর্জাতিক ও বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুমোদিত এজেন্সির মাধ্যমে এসব রেমিট্যান্স প্রেরণ করে থাকে। কোনো কোনো ব্যাংক কেবলমাত্র গোপন একটি পিন নাম্বারের মাধ্যমে অর্থ লেনদেন করছেন। অনেক প্রবাসী গ্রাহক তাদের ব্যক্তিগত হিসাবেও অর্থ প্রেরণ করেন।
এদিকে চাঁদপুরে উত্তরা, ফার্মাস, মার্কেন্টাইল, প্রাইম, ডাচ-বাংলা, সিটি, ন্যাশানাল, ইউনাইটেড কমার্শিয়াল, ট্রাস্ট প্রভৃতি ব্যাংকগুলো প্রবাসীদের প্রেরিত অর্থ লেনদেন করলেও চাঁদপুরে এসব ব্যাংকের নিয়ন্ত্রণকারী বিভাগীয় অফিস কুমিল্লা থাকায় এবং বিকাশ লেনদেন তথ্য দিতে অপারগতা প্রকাশ করায় এ প্রতিবেদনে তা উল্লেখ করা সম্ভব হয়নি বলে এ প্রতিবেদনে যুক্তহয়নি। প্রবাসীদের পাঠানো বৈদেশিক রেমিট্যান্স দেশের রিজার্ভ বাড়ছে। কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও আর্থ-সামাজিক অবস্থার ব্যাপক উন্নয়ন হচ্ছে। কোনো কোনো ব্যাংকের প্রতিটি বৈদেশিক রেমিট্যান্স ডেস্ক ও হেলপ ডেস্ক আলাদাভাবে সেবা প্রদানের জন্য খোলা হয়েছে। ব্যাংক শাখা এ ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ সেবা প্রদানে বদ্ধপরিকর।
প্রবাসীরা টাকা প্রেরণের কয়েক মিনিটের মধ্যেই ব্যাংক তার গ্রাহককে কাঙ্খিত অংকের টাকা প্রদান করতে সক্ষম। বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুমোদিত বিভিন্ন অর্থলগ্নি এজেন্সির মাধ্যমে বাংলাদেশি প্রবাসীরা তাদের নিজ নিজ কর্মস্থল থেকে ওই অর্থ প্রেরণ করেন।
চাঁদপুর রূপালী ব্যাংকের উপ-মহাব্যবস্থাপক রূপক কুমার রক্ষিত চাঁদপুরের রেমিটেন্স অর্জন সম্পর্কে বলেন, আমাদের দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের চাবিকাঠি হলো রেমিটেন্স। এতে ব্যাংকের রিজার্ভ বাড়ছে। মানুষের আর্থিক সচ্ছলতা বৃদ্ধির পাশাপাশি দৈনন্দিন জীবনে বৈদেশিক রেমিটেন্স একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। চাঁদপুরসহ দেশের সার্বিক অর্থনৈতিক উন্নয়নে রেমিটেন্টেসর ভূমিকা অপরিহার্য। তিনি আরোও বলেন, বিশেষ করে চাঁদপুরের গ্রামে-গঞ্জে প্রবাসীদের পাঠানো অর্থের কারণে প্রতিটি বাড়িতে দৃষ্টিনন্দন ভবন দেখা যাচ্ছে। রুপালী ব্যাংক তাদের সার্বিক লেনদেনের জন্য যথেষ্ট আন্তরিকতার সহিত কাজ করে থাকে।
আনন্দবাজার/এম.আর









