১৫ দিনে প্রায় ১১ হাজার কোটি টাকা
- সরকারি ব্যাংকে ১৫১৭ কোটি ৪০ লাখ টাকা
- বেসরকারি ব্যাংকে ৯ হাজার ১৬১ কোটি ৬৪ লাখ টাকা
- বিদেশি ব্যাংকে ৩৬ কোটি ৭২ লাখ
- বিশেষায়িত ব্যাংকে ৬৯ কোটি ১২ লাখ
যেসব ব্যাংকে আসেনি কোনো রেমিট্যান্স---
সরকারি বিডিবিএল, রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংক, বিদেশি ব্যাংক আল-ফালাহ, হাবিব ব্যাংক ও ন্যাশনাল ব্যাংক অব পাকিস্তান, স্টেট ব্যাংক অফ ইন্ডিয়া ও ওরি ব্যাংক।
দেশের বাজারে হঠাৎ করেই সংকট তৈরি হয় বৈদেশিক মুদ্রা ডলারের। বন্ধ হয়ে যায় অধিকাংশ পণ্যের আমদানি। দফায় দফায় মান হারায় টাকা। ডলারের মূল্য ছাড়ায় ১২০ টাকায়। তুলনামূলক কমতে থাকে রেমিট্যান্স। সংকট কাটাতে নানা উদ্যোগ নেয় কেন্দ্রীয় ব্যাংক। রিজার্ভ থেকে খরচ করা হয় ডলার। এতে সংকটে পড়ে রিজার্ভ। রেমিট্যান্স বাড়াতে প্রবাসীদের দেয়া হয় নানা সুযোগ-সুবিধা। এতে বাড়াতে থাকে রেমিট্যান্স প্রবাহ। অর্থনীতিবীদরা বলছেন, প্রবাসীরা যেনো সহজেই বৈধ পথে অর্থ পাঠাতে পারেন সেদিকে সবসময় সরকারের নজর দেয়া দরকার।
বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিসংখ্যান বিভাগের তথ্য বলছে, চলতি সেপ্টেম্বর মাসের প্রথম ১৫ দিনে দেশে রেমিট্যান্স এসেছে ১০০ কোটি ৮৬ লাখ ডলার। প্রতি ডলার ১০৮ টাকা হিসেবে দেশীয় মুদ্রায় যার পরিমাণ ১০ হাজার ৮৯৩ কোটি টাকা। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, চলমান ধারা অব্যাহত থাকলে মাস শেষে প্রবাসী আয়ের পরিমাণ ২০০ কোটি ডলার ছাড়িয়ে যাবে।
জানা গেছে, সেপ্টেম্বরের প্রথম ১৫ দিনে রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন পাঁচ বাণিজ্যিক ব্যাংকের মাধ্যমে রেমিটেন্স এসেছে ১৪ কোটি ৫ লাখ মার্কিন ডলার। দেশিয় মুদ্রায় যার পরিমান ১ হাজার ৫১৭ কোটি ৪০ লাখ টাকা। বেসরকারি ব্যাংকের মাধ্যমে রেমিটেন্স এসেছে ৮৪ কোটি ৮৩ লাখ মার্কিন ডলার। দেশিয় মুদ্রায় যার পরিমান ৯ হাজার ১৬১ কোটি ৬৪ লাখ টাকা। বিদেশি ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে এসেছে ৩৪ লাখ মার্কিন ডলার। দেশিয় মুদ্রায় যার পরিমান ৩৬ কোটি ৭২ লাখ। বিশেষায়িত একটি ব্যাংকের মাধ্যমে এসেছে এক কোটি ৬৪ লাখ মার্কিন ডলার। দেশিয় মুদ্রায় যার পরিমান ৬৯ কোটি ১২ লাখ টাকা।
তথ্য বলছে, এই ১৫ দিনে সবচেয়ে বেশি রেমিট্যান্স এসেছে বেসরকারি ইসলামী ব্যাংকের মাধ্যমে। ব্যাংকটির মাধ্যমে প্রবাসীরা পাঠিয়েছেন ২২ কোটি ডলার। বাংলাদেশি হিসেবে এর পরিমান ২ হাজার ৩৭৬ কোটি টাকা। এরপর সিটি ব্যাংকে এসেছে ৯ কোটি ৯৭ লাখ ডলার, টাকায় এক হাজার ৭৬ কোটি ৬০ লাখ টাকা। আল-আরাফাহ ইসলামী ব্যাংকে ৭ কোটি ৩০ লাখ ডলার, টাকায় ৭৫৯ কোটি ২৪ লাখ টাকা। অগ্রণী ব্যাংকে ৬ কোটি ২৩ লাখ, টাকায় ৬৫৬ কোটি ৯৬ লাখ, এবং ডাচ-বাংলা ব্যাংক ৫ কোটি ২১ লাখ ডলার, টাকায় ৪০১ কোটি ৬৮ লাখ এবং পূবালী ব্যাংকের মাধ্যমে এসেছে ৫ কোটি ৫৮ লাখ ডলার, টাকায় ৫৪৭ কোটি ৩৪ লাখ টাকা।
সরকারি বিডিবিএল, রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংক, বিদেশি ব্যাংক আল-ফালাহ, হাবিব ব্যাংক ও ন্যাশনাল ব্যাংক অব পাকিস্তান, স্টেট ব্যাংক অফ ইন্ডিয়া ও ওরি ব্যাংকের মাধ্যমে কোনো রেমিট্যান্স আসেনি।
এদিকে চলতি অর্থবছরের টানা দুই মাস ২ বিলিয়ন ডলারের বেশি রেমিট্যান্স বৈধ পথে পাঠিয়েছে প্রবাসীরা। গত আগস্ট মাসের ২০৩ কোটি ৭৮ লাখ (২ দশমিক ০৩ বিলিয়ন) ডলারের রেমিট্যান্স এসেছে। তার আগের মাস জুলাইয়ে এসেছিল ২০৯ কোটি ৬৩ লাখ ডলার। জুলাই মাসে ঈদ-উল আজহার কারণে দেশে বিপুল পরিমাণ প্রবাসী আয় এসেছিল। তবে আগস্টে বড় উৎসব ছিল না, তারপরও প্রবাসী আয় ২০০ কোটি ডলার ছাড়ায়। চলতি বছরের প্রথম আট মাসের মধ্যে যে তিন মাস প্রবাসী আয় ২০০ কোটি ডলারের বেশি ছিল।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২০২১-২২ অর্থবছরে প্রবাসী বাংলাদেশিরা ব্যাংকিং চ্যানেলের মাধ্যমে ২ হাজার ১০৩ কোটি ১৭ লাখ (২১ দশমিক ৩ বিলিয়ন) মার্কিন ডলারের রেমিট্যান্স দেশে পাঠিয়েছেন, যা আগের অর্থবছরের চেয়ে ১৫ দশমিক ১১ শতাংশ কম। ২০২০-২১ অর্থবছরে দুই হাজার ৪৭৭ কোটি ৭৭ লাখ (২৪ দশমিক ৭৭ বিলিয়ন) ডলারের রেমিট্যান্স পাঠিয়েছিলেন প্রবাসীরা।
এখন বিদেশ থেকে যেকোনো পরিমাণ রেমিট্যান্স পাঠাতে কোনো ধরনের কাগজপত্র লাগে না। এছাড়া আবার প্রবাসী আয়ের ওপর আড়াই শতাংশ হারে প্রণোদনা দিচ্ছে সরকার।
ডলারের সংকট নিরসন ও প্রবাসী আয় বাড়াতে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো নিজেরাই বসে গত ১১ সেপ্টেম্বর সর্বোচ্চ দাম নির্ধারণ করে দেয়। ব্যাংক নির্বাহীদের সংগঠন অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকার্স বাংলাদেশ (এবিবি) ও বাংলাদেশ ফরেন এক্সচেঞ্জ অথরাইজড ডিলারস অ্যাসোসিয়েশনের (বাফেদা) যৌথ সভায় দাম নির্ধারণ করে।
বাফেদার ঘোষিত দাম অনুযায়ী, এখন থেকে দেশে ব্যাংকিং চ্যানেলে প্রবাসী শ্রমিকদের পাঠানো রেমিট্যান্সের ক্ষেত্রে প্রতি ডলার সর্বোচ্চ ১০৮ টাকায় কিনতে পারবে ব্যাংক। বাণিজ্যিক রেমিট্যান্স ও রপ্তানি বিল নগদায়ন হবে প্রতি ডলার ৯৯ টাকায়। এ ছাড়া রেমিট্যান্স আহরণ ও রপ্তানি বিল নগদায়নে ব্যাংকগুলোর গড় (ওয়েট অ্যান্ড এভারেজ) মূল্যের সঙ্গে সর্বোচ্চ এক টাকা যোগ করে আমদানিকারকের কাছে ডলার বিক্রি করতে পারবে ব্যাংকগুলো।
বাংলাদেশ ব্যাংকের ওয়েবসাইটে ‘টাকার বিনিময় মূল্য’ অংশে বলা হয়েছে, চাহিদা ও জোগানের ভিত্তিতে এবং বাফেদার নির্দেশনা অনুযায়ী আন্তব্যাংক লেনদেন এবং গ্রাহক লেনেদেনের জন্য টাকার বিনিময়মূল্য নির্ধারণ করছে ব্যাংকগুলো। সবশেষ ১৮ সেপ্টেম্বরের দেয়া তথ্য অনযায়ী, ডলারের বিপরীতে টাকার মূল্য সর্বোচ্চ ১০৫ টাকা ৫০ পয়সা এবং সর্বনিম্নও ১০৫ টাকা ৫০ পয়সা দেয়া আছে।









