চারটা বছর এই দেশে আছি এমন পরিস্থিতি আগে দেখিনি। এই দেশের সরকার এতো পদক্ষেপ নিয়েও এই মহামারি সামলাতে হিমশিম খেয়ে যাচ্ছে। তুরস্কের স্বাস্থ্য মন্ত্রনালয়ের হিসেবে, এখন পর্যন্ত করোনা আক্রান্তের সংখ্যা ১৯৩। এরমধ্যে দুইজন মারা গেছেন।
আর বাংলাদেশের অবস্থা কি হবে সেটাই ভাবছি। সারাবছর হয়তো নামাজের খবর নাই। এখন সরকার মানা করছে দেখে তাদের ইমান চাঙ্গা হয়ে গেছে! যতই বলছে জনসমাবেশ এড়িয়ে থাকেন ততই তাদের লোক দেখানো ধর্মকর্ম বেড়ে যাচ্ছে। বিনোদন কর্ম বেড়ে যাচ্ছে। আজ সকাল থেকে বেশ কজন আমার কাছে জানতে চেয়েছে, বাংলাদেশে রোগমুক্তির জন্য জনসমাবেশ করে দোয়া করার খবরটা সত্যি কিনা? তাদের আর কি জবাব দিবো! শুধু বললাম, এরা না বুঝে ধর্ম না বুঝে বিজ্ঞান!
একদিন আগে জরুরি কাজে মেট্রোরেলে চড়েছিলাম। সন্ধ্যা ছয়টা থেকে সাতটা কর্মস্থল থেকে ফেরার সময়। সাধারণত সবচেয়ে বেশি ভীড় থাকে তখন। এতো ফাঁকা ছিল দেখে কেমন যেন লাগলো। যারা ছিল তারাও দূরত্ব বজায় রেখে বসেছে। নাক মুখ ঢেকে রেখেছে হয় মাস্ক না হয় শাল দিয়ে। ক্যাফে, দোকান, শপিংমল, কমিউনিটি সেন্টার সব ফাঁকা! বাস টার্মিনালের দিকে যাওয়া রাস্তাটাতেই একটু গাড়ির চলাচল বেশি ছিল মনে হলো।
আমার কেন যেন মনে হচ্ছে একটা যুদ্ধ চলছে। বইয়ে নানান সময়ে পড়া যুদ্ধ চলাকালীন সময়ের বর্ণনাগুলো মনে পড়ছে। কি অদ্ভূত এইটা সময়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছি আমরা!এই ক্রান্তিকালে চীনের সাফল্যের খবরগুলো কেন যেন একটু শান্তি দিচ্ছে।

শীত শেষে যখন বসন্তের অপেক্ষায় ছিলাম তখন কত কিছু এলো। করোনা এলো, হুট করে আবার শীত বেড়ে গেল। আজ প্রচুর তুষার পড়েছে আনকারাতে।
সবাই সাবধানে এবং নিরাপদে থাকুন। আর অবশ্যই দোয়া করবেন তবে সেটা ঘরে বসে মনে মনে করাটাই উত্তম।
আনন্দবাজার/রনি








