দীর্ঘ আড়াই বছর সৌদি আরবে প্রবাস জীবন কাটানোর পর গত জানুয়ারি মাসে দেশে ফেরেন দিনাজপুর নিবাসী মো. শাহ আলমও। এক মাসের জন্য ছুটিতে দেশে এলেও নভেল করোনাভাইরাস সৃষ্ট পরিস্থিতিতে সৌদি আরবে ফিরতে পারেননি তিনি। কবে যেতে পারবেন তারও কোন নিশ্চয়তা নেই। এদিকে দেশেও এখন নতুন করে চাকরিতে ঢোকার অবস্থা নেই।
একইভাবে চলতি বছরের প্রথম তিন মাসে ছুটি নিয়ে দেশে ফেরা প্রবাসীদের বড় একটি অংশই এখন চাকরি হারানোর আশংকায় দিন পার করছেন। আবার প্রবাসীদের নিয়ে এক ধরনের আতঙ্ক থাকায় দেশে ফিরে বিব্রতকর পরিস্থিতিতে পরতে হয়েছে তাদের।
পুলিশের বিশেষ শাখার তথ্য বলছে, চলতি বছর জানুয়ারি থেকে এখন পর্যন্ত ৬ লাখ ৬৯ হাজার ৩৭৭ জন প্রবাসী বিভিন্ন দেশ থেকে এসেছেন। যার মধ্যে শ্রমিক রয়েছে প্রায় ৫ লাখ। এদের মধ্যে মার্চের প্রথম ২০ দিনেই এসেছে ২ লাখ ৯৩ হাজারের মত শ্রমিক।
সৌদি আরব, কুয়েত, কাতার, ওমান, সংযুক্ত আরব আমিরাত, বাহরাইন, লেবাননসহ মধ্যপ্রাচ্যের প্রায় সবকটি দেশেই কভিড-১৯ আক্রান্ত রোগী শনাক্ত হয়েছে। ধস নেমে এসেছে দেশগুলোর পর্যটন ও এয়ারলাইনস ব্যবসায়। এর প্রভাব পড়েছে অন্যান্য ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানেও। তাই সামনের দিনগুলোয় কাজ হারানোরও আশঙ্কা রয়েছে প্রবাসীদের মধ্যে।
এ বিষয়ে প্রবাসী শ্রমিকদের নিয়ে কাজ করা বেসরকারি সংস্থা রিফিউজি অ্যান্ড মাইগ্রেটরি মুভমেন্টস রিসার্চ ইউনিটের (রামরু) পরিচালক ড. সিআর আবরার বলেন, প্রবাসী শ্রমিকদের পাঠানো রেমিট্যান্স দেশের অর্থনীতিতে সবসময়ই একটা বড় অবদান রেখেছে। এখন নভেল করোনাভাইরাসের কারণে কাজ বন্ধ থাকায় অনেকেই দেশে টাকা পাঠাতে পারছেন না। আবার যারা ছুটিতে দেশে এসেছেন, তারাও অনিশ্চয়তায় পড়েছে। সরকারের এখনই তাদের জীবন ধারণের মৌলিক চাহিদাগুলো মেটানোর ব্যবস্থা করা জরুরি।
তিনি আরও বলেন, ভবিষ্যতে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো যে অর্থনৈতিক মন্দায় পড়তে যাচ্ছে তাতে অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানই কম জনবল নিয়ে কাজ চালাতে চাইবে। ফলে প্রবাসীদের চাকরির ক্ষেত্রে এর প্রভাব পড়ার সম্ভবনা রয়েছে। এ বিষয়টিও সরকারকে বিবেচনায় রাখতে হবে।
আনন্দবাজার/তা.তা









