- অভিবাসী প্রেরণে ষষ্ঠ
- রেমিট্যান্সে বিশ্বে অষ্টম
জনসংখ্যা দক্ষ হলে তালিকায় আরো ওপরে ওঠা সম্ভব
-মির্জ্জা আজিজুল ইসলাম
বিশ্বের বিভিন্ন দেশে অভিবাসী প্রেরণের দিক দিয়ে বাংলাদেশের অবস্থান ষষ্ঠতম। তবে রেমিটেন্স গ্রহণের দিক থেকে রয়েছে অষ্টম অবস্থানে। আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা (আইওএম) বিশ্ব অভিবাসন প্রতিবেদন ২০২২-এ এমন তথ্য উঠে এসেছে। বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, প্রশিক্ষণ দিয়ে জনশক্তি রফতানি করা সম্ভব বাংলাদেশের অবস্থান আরো ওপরের দিকে উঠবে।
গেল ২০২০ সালে ৭৪ লাখ অভিবাসীর মাধ্যমে ২১ দশমিক ৭৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স যুক্ত হয়েছে বাংলাদেশের অর্থনীতিতে। এর ফলে সবচেয়ে বেশি রেমিট্যান্স প্রবাহের দেশগুলোর তালিকায় বাংলাদেশ অষ্টম স্থান রয়েছে। এর আগে ২০২০ সালের বিশ্ব অভিবাসী প্রতিবেদনে অবশ্য বাংলাদেশ শীর্ষ দশে জায়গা পায়নি।
ই-পেপার পড়তে ক্লিক করুন আমাকে
প্রতিবেদনে আরো বলা হয়েছে, ২০২০ সালে বিশ্বে আন্তর্জাতিক অভিবাসীর সংখ্যা ছিল ২৮১ মিলিয়ন বা ২৮ কোটি ১০ লাখ। ১৮ মিলিয়ন অভিবাসী নিয়ে শীর্ষ অভিবাসী প্রেরণকারী দেশের স্থান দখল করেছে ভারত। ভারতের পরই রয়েছে মেক্সিকো, রাশিয়া, চীন ও সিরিয়া। তখন মহামারির কারণে অভিবাসীদের পাঠানো আন্তর্জাতিক রেমিট্যান্স ২০২০ সালে ৭০২ বিলিয়ন ডলারে নেমে এসেছে, যা ২০১৯ সালে ছিল ৭১৯ বিলিয়ন ডলার।
গত বছর সবচেয়ে বেশি রেমিট্যান্স পাওয়া দেশগুলো হলো ভারত (৮৩.১৫ বিলিয়ন ডলার), চীন (৫৯.৫১ বিলিয়ন ডলার), মেক্সিকো (৪২.৭ বিলিয়ন ডলার), ফিলিপাইন (৩৪.৯১ বিলিয়ন ডলার), মিশর (২৯.৬০ বিলিয়ন ডলার), পাকিস্তান (২৬.১১ বিলিয়ন ডলার) এবং ফ্রান্স (২৪.৪৮ বিলিয়ন ডলার)।
রিফিউজি অ্যান্ড মাইগ্রেটরি মুভমেন্ট রিসার্চ ইউনিটের (আরএমএমআরইউ) প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান তাসনিম সিদ্দিকী বলেন, অভিবাসী প্রেরণকারী দেশ এবং রেমিট্যান্স গ্রহণকারী হিসেবে বাংলাদেশের অবস্থান ভালো। বর্তমানে আমাদের রেমিট্যান্স প্রবাহ কমছে, তবে প্রবাহ স্থিতিশীল রাখতে আমাদের সতর্ক থাকতে হবে। ধীরে ধীরে আমাদের দক্ষ অভিবাসী সরবরাহকারীতে রূপান্তরিত হতে হবে। এতে করে রেমিট্যান্স বাড়বে এবং এক্সপ্লয়টেশন কমবে।
বিশ্বব্যাংকের হিসাব অনুসারে, অভিবাসীরা ২০১৯ সালে বাংলাদেশে ১৮ বিলিয়ন ডলারের বেশি পাঠিয়েছেন। এর ৭৩ শতাংশ এসেছে উপসাগরীয় সহযোগিতা কাউন্সিল (জিসিসি) দেশগুলোতে কর্মরতদের কাছ থেকে। এই রেমিট্যান্স বাংলাদেশের জিডিপিতে ৬ শতাংশের বেশি অবদান রাখছে। বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের দিক থেকে দেশের রেমিট্যান্স খাত দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে। নীতিনির্ধারকরা রেমিট্যান্স পাঠানোতে উৎসাহ ও নানা সুবিধা দিচ্ছে। ফলে দেশের রেমিট্যান্সের দৃশ্যপট অনেকটাই পাল্টে গেছে।
আইওএম বাংলাদেশের অফিসার ইন চার্জ ফাতিমা নুসরাত গাজ্জালি বলেন, কোভিড-১৯-এর প্রভাবে বিশ্বব্যাপী রেমিট্যান্সের প্রবাহ ধীর হয়ে গিয়েছিল। তা সত্ত্বেও ২০২০ সালে ২১ দশমিক ৭৬ বিলিয়ন ডলার রেমিট্যান্স বাংলাদেশের অর্থনীতিতে যুক্ত হয়েছে। মোটের ওপর, অভিবাসন বাংলাদেশের উন্নতির একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠেছে। অভিবাসীরা উন্নত অর্থনৈতিক, সামাজিক ও নিরাপত্তা পরিস্থিতির জন্য অভিবাসন করেন এবং তারপর নিজ দেশে জীবনযাত্রার মান বাড়াতে সহায়তা করেন।
সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা মির্জ্জা আজিজুল ইসলাম বলেন, বাংলাদেশের জনসংখ্যাকে প্রশিক্ষণ দিয়ে দক্ষ করতে পারলে এসব তালিকায় বাংলাদেশ আরো ওপরের দিকে উঠবে। যা দেশের অর্থনীতির জন্য সুখবর হবে।









