দেশের বাজারে আবারও কমেছে সোনা ও রুপার দাম। বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস) মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) নতুন দর নির্ধারণ করে।
আজ বুধবার (২৯ এপ্রিল) থেকে সোনা ও রুপার এই নির্ধারিত দাম কার্যকর হয়েছে। আজ থেকে ক্রেতাদের সংশোধিত দামে সোনা ও রুপা কিনতে হচ্ছে।
বাজুসের ঘোষণা অনুযায়ী, সবচেয়ে ভালো মানের ২২ ক্যারেট সোনার দাম ভরিপ্রতি ২ হাজার ২১৬ টাকা কমিয়ে নতুন দর নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৪৪ হাজার ৭১১ টাকা। এছাড়া ২১ ক্যারেট সোনার দাম ভরিতে ২ লাখ ৩৩ হাজার ৫৭২ টাকা, ১৮ ক্যারেট সোনার দাম ২ লাখ ২১৩ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির সোনার দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ১ লাখ ৬৩ হাজার ৬৩ টাকা।
সোনার পাশাপাশি রুপার দামেও বড় ধরনের হ্রাস এসেছে। ২২ ক্যারেট রুপার দাম ভরিতে ২৩৩ টাকা কমে দাঁড়িয়েছে ৫ হাজার ৪৮২ টাকা। ২১ ক্যারেট রুপা বিক্রি হচ্ছে ৫ হাজার ১৯০ টাকা, ১৮ ক্যারেট রুপার দাম ৪ হাজার ৪৯১ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির রুপার দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ৩ হাজার ৩৮৩ টাকা।
বাজুস জানিয়েছে, স্থানীয় বাজারে তেজাবি সোনার (পিওর গোল্ড) দাম কমার প্রভাব এবং আন্তর্জাতিক বাজার পরিস্থিতি বিবেচনায় নতুন দর নির্ধারণ করা হয়েছে। সংস্থাটির মূল্য নির্ধারণ ও পর্যবেক্ষণ স্থায়ী কমিটি মঙ্গলবার সকাল ১০টা থেকে নতুন দাম কার্যকরের সিদ্ধান্ত নেয়।
এর আগে ২৩ এপ্রিলও সোনা ও রুপার দাম কমানো হয়েছিল। সর্বশেষ দুই দফায় সোনার দাম ভরিতে মোট ৫ হাজার ৪৮২ টাকা কমেছে। একই সময়ে রুপার দাম কমেছে মোট ৫৮৪ টাকা।
বাজুস আরও জানিয়েছে, নির্ধারিত দামের সঙ্গে সরকার নির্ধারিত ৫ শতাংশ ভ্যাট এবং বাজুস নির্ধারিত ন্যূনতম ৬ শতাংশ মজুরি যোগ হবে। তবে গয়নার ডিজাইন ও কারিগরি মান অনুযায়ী মজুরি ভিন্ন হতে পারে।
সংস্থাটির তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত দেশে সোনার দাম ৫৭ বার সমন্বয় করা হয়েছে। এর মধ্যে ৩২ বার বেড়েছে এবং ২৫ বার কমেছে। একই সময়ে রুপার দাম সমন্বয় করা হয়েছে ৩৬ বার।
উল্লেখ্য, ২০২৫ সালে সোনার দাম ৯৩ বার এবং রুপার দাম ১৩ বার পরিবর্তন করা হয়েছিল। চলতি বছরে বাজারে মূল্য পরিবর্তনের প্রবণতা আরও বেশি অস্থির বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
বাজার বিশ্লেষকদের মতে, আন্তর্জাতিক বাজারের ওঠানামা এবং স্থানীয়ভাবে তেজাবি সোনা ও রুপার সরবরাহ বৃদ্ধির কারণে এই মূল্য সমন্বয় অব্যাহত থাকতে পারে।









