রাজধানীর দুই ফিলিং স্টেশনে শুরু হয়েছে পরীক্ষামূলক ‘ফুয়েল পাস’ অ্যাপের ব্যবহার। শুক্রবার থেকে যেখানে বাড়তি তেল পাচ্ছেন অ্যাপধারীরা, সেখানে শনিবার থেকেই অ্যাপ ছাড়া তেল না দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে একটি পাম্প।
জ্বালানি সংকটের এই সময়ে অ্যাপ–নির্ভর ডিজিটাল সেবার কারণে ঢাকার দুটি পাম্পে দেখা গেছে ভিন্ন ভিন্ন চিত্র। একদিকে তেজগাঁওয়ের ট্রাস্ট ফিলিং স্টেশন, অন্যদিকে আসাদগেটের সোনার বাংলা ফিলিং স্টেশন দু’টিতেই দীর্ঘ লাইন, ভিড়, অসন্তোষ আর নতুন ব্যবস্থার নানা অভিজ্ঞতা।
আসাদগেটের সোনার বাংলা ফিলিং স্টেশনে শুক্রবার মোটরসাইকেলের লাইন ছিল প্রায় দেড় কিলোমিটার লম্বা। এখানে—
অ্যাপধারীরা পাচ্ছেন ১,০০০ টাকার তেল,
অ্যাপ ছাড়া মিলছে মাত্র ৫০০ টাকার তেল,
অ্যাপ ছাড়া শনিবার থেকে আর তেল দেওয়া হবে না এ ঘোষণা মাইকিংয়ে জানানো হচ্ছে। পাম্পে স্বেচ্ছাসেবকরা গ্রাহকদের অ্যাপে নিবন্ধনে সহায়তা করছেন।
এক গ্রাহক, শিক্ষার্থী ফুয়াদ বলেন, “সরকার তো বৃহস্পতিবার থেকেই সুবিধা দেওয়ার কথা বলেছে। কিন্তু আলাদা লাইন নেই। দেড় কিলোমিটার দাঁড়িয়ে শেষে অ্যাপ দেখালে ১,০০০ টাকার তেল মিলছে। শনিবার থেকে অ্যাপ ছাড়া বন্ধ হওয়া উচিত সব পাম্পেই।”
তেজগাঁওয়ের ট্রাস্ট ফিলিং স্টেশনে শুক্রবার থেকেই অ্যাপধারীদের জন্য পৃথক লাইন করা হয়েছে, যা গিয়ে ঠেকেছে বিজয় সরণির মোড়ে। এই পাম্পে—
অ্যাপধারীরা পাচ্ছেন ১,২০০ টাকার তেল,
অ্যাপ ছাড়া সর্বোচ্চ ১,০০০ টাকার তেল,
তবে বাইকারদের অভিযোগ, লাইনে সময় বেশি লাগছে। আলাদা লাইন করেও তেমন সুবিধা পাওয়া যাচ্ছে না।
জ্বালানি বিতরণে স্বচ্ছতা আনার জন্য সরকার চালু করেছে ‘ফুয়েল পাস’। এখন কিউআর কোড স্ক্যান করেই গ্রাহক নির্ধারিত বরাদ্দ অনুযায়ী তেল নিতে পারবেন।
প্রথম ধাপে হ ও ল সিরিজের মোটরসাইকেলের জন্য উন্মুক্ত,
স্মার্টফোন না থাকলেও ওয়েবসাইটে নিবন্ধন করে প্রিন্টেড কিউআর ব্যবহার করা যাবে,
সফল হলে ধীরে ধীরে সারা দেশে চালু হবে সব যানবাহনে।
মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতিতে জ্বালানি সংকট তৈরি হওয়ায় বিভিন্ন পাম্পে গাড়ির দীর্ঘ লাইন এই অবস্থায় অ্যাপ-ভিত্তিক ব্যবস্থাকে একটি “ডিজিটাল সমাধান” হিসেবে দেখা হচ্ছে।









