আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সবকটি আসনেই প্রার্থী দেওয়ার পরিকল্পনা নিয়ে এগোচ্ছে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের নেতৃত্বদানকারীদের নতুন রাজনৈতিক দল জাতীয় নাগরিক পার্টি-এনসিপি। বিদ্যমান রাজনৈতিক ধারার বাইরে নতুন ধারার সূচনা করা দলটি কোনো দলের সঙ্গে নির্বাচনি জোট করার বিষয়টি ভাবছে না, বরং তাদের নেতৃত্বে কোনো দল জোট গড়তে আগ্রহী হলে বিবেচনা করা হবে।
এনসিপির নেতারা জানিয়েছেন, পবিত্র রমজানের মধ্যেই নিবন্ধনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করার পাশাপাশি সারাদেশে দলের কাঠামো গড়ে তোলা হবে। ডিসেম্বর থেকে জুনের মধ্যে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সম্ভাব্য তারিখ ধরে সব আসনেই প্রার্থী দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে দলটির। তবে প্রতিটি নির্বাচনের সময় জোট গড়ে নির্বাচন করার পথে রাজনৈতিক দলগুলো হাঁটলেও সেই ধারায় যুক্ত হওয়া-না হওয়ার বিষয়ে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। এ ব্যাপারে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে ভোটের প্রক্রিয়া শুরু বা নির্বাচনি তফসিলের আগমুহূর্তে।
এনসিপি সূত্র জানায়, দেশের প্রধান দুই রাজনৈতিক দল বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে রাজনৈতিক বা নির্বাচনি জোট করা, না করার সম্ভাবনা কম নতুন দলের। এক্ষেত্রে এনসিপির রাজনীতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক নয়—জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সঙ্গে থাকা অন্যান্য রাজনৈতিক দলগুলো জোট গড়তে চাইলে বিবেচনা করা হবে। বিশেষ করে মধ্যমপন্থি রাজনীতির কাছাকাছি দলগুলো, ছোট হোক বা বড় হোক—তারা চাইলে এনসিপি জোট গড়তে পারে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনসিপির অন্তত চারজন নীতিনির্ধারণী নেতা জানিয়েছেন, সারাদেশে দলের কাঠামো ঠিক করার পাশাপাশি সংসদীয় সব আসনেই একক প্রার্থী বাছাই করা হবে। সেই প্রক্রিয়া নির্বাচনি প্রক্রিয়া শুরুর সময় বা নির্বাচনি তফসিল ঘোষণার আগে-পরে জোরালোভাবে সম্পন্ন করা হবে। এনসিপির রাজনীতির সঙ্গে একমত হয়ে কোনো দল একসঙ্গে নির্বাচন করতে চাইলে সেভাবে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। সম্ভাব্য সবকিছু সামনে রেখেই আগোচ্ছে এনসিপি।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক সারোয়ার তুষার বলেন, সংসদীয় সব আসনেই এনসিপির দলীয় প্রার্থী চূড়ান্ত করার বিষয়টি সামনে রেখে আমরা এগোচ্ছি। নতুন রাজনৈতিক দল হিসেবে কারো জোটের অংশ হওয়ার ব্যাপারে কোনো চিন্তাভাবনা এনসিপির নেই। নির্বাচনের আগে অন্য মাঝারি বা ছোট দলগুলো আমাদের সঙ্গে জোট গড়তে চাইলে তখন বিষয়টি বিবেচনা করা হবে।









