নেপালের রাজনীতিতে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা হলো। জনপ্রিয় র্যাপার থেকে রাজনীতিতে উঠে আসা বালেন্দ্র শাহ দেশটির ৪৭তম প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছেন।
শুক্রবার (২৭ মার্চ) দুপুরে রাষ্ট্রপতি ভবনে আয়োজিত আনুষ্ঠানিক অনুষ্ঠানে তাকে শপথ পড়ান রামচন্দ্র পৌডেল। শপথ অনুষ্ঠানে দেশি-বিদেশি কূটনীতিক ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো।
শপথের সময় বালেন্দ্র শাহের পোশাকও ছিল আলাদা আকর্ষণের কেন্দ্র আঁটসাঁট ট্রাউজার্স ও জ্যাকেট, মাথায় তার পরিচিত কালো নেপালি টুপি এবং চোখে সানগ্লাস।
‘বালেন’ নামে পরিচিত এই নেতা দায়িত্ব নেওয়ার আগেই একটি র্যাপ গান প্রকাশ করে সমর্থকদের মধ্যে উন্মাদনা তৈরি করেন। সেখানে তিনি সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান “অবিভক্ত নেপালি, এবার ইতিহাস তৈরি হচ্ছে।” গানটি প্রকাশের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ২০ লাখের বেশি মানুষ দেখে ফেলেন।
মাত্র ৩৫ বছর বয়সেই তার এই উত্থান নেপালের রাজনীতিতে বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে। দুর্নীতি, স্বজনপ্রীতি ও দীর্ঘদিনের অভিজাত রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে বিরক্ত জনগণের কাছে তার পরিবর্তনের প্রতিশ্রুতি ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। কাঠমান্ডুর মেয়র হিসেবে তিন বছরের অভিজ্ঞতার পর তিনি রাষ্ট্রীয় স্বতন্ত্র পার্টি (আরএসপি) থেকে জাতীয় নির্বাচনে অংশ নেন।
৫ মার্চের নির্বাচনে তার দল ২৭৫ আসনের সংসদে ১৮২টি আসন পেয়ে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে। গত বছরের সেপ্টেম্বরে দুর্নীতিবিরোধী আন্দোলনে ৭৬ জন নিহত হওয়ার পর এটিই ছিল দেশের প্রথম সাধারণ নির্বাচন।
বালেন্দ্র শাহ নেপালের কনিষ্ঠতম প্রধানমন্ত্রীদের একজন এবং মাধেসি নৃগোষ্ঠীর প্রথম নেতা হিসেবে এই পদে বসেছেন। তার সমর্থকরা তাকে পরিবর্তনের প্রতীক হিসেবে দেখছেন। তবে নতুন দল হিসেবে আরএসপির প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন নিয়ে কিছুটা সংশয়ও রয়েছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নতুন সরকারের সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হবে দ্রুত ও স্বচ্ছ সেবা নিশ্চিত করা, দুর্নীতিবিরোধী আন্দোলনের সময়কার সহিংসতার তদন্ত বাস্তবায়ন এবং জনগণের আস্থা ধরে রাখা।
দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক অস্থিরতা, বেকারত্ব ও অর্থনৈতিক মন্দায় জর্জরিত নেপালের জন্য এখন বড় পরীক্ষা অর্থনীতি পুনরুদ্ধার, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনা।
ভারত ও চীনের মাঝখানে অবস্থিত এই দেশটিতে ১৯৯০ সালের পর এখন পর্যন্ত ৩২টি সরকার ক্ষমতায় এলেও কোনো সরকারই পূর্ণ মেয়াদ শেষ করতে পারেনি। তাই নতুন প্রধানমন্ত্রী বালেন্দ্র শাহের কাঁধে এখন শুধু সরকার পরিচালনা নয়, বরং একটি নতুন রাজনৈতিক ধারার সূচনা করার বড় দায়িত্বও এসে পড়েছে।









