মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিতিশীল পরিস্থিতির প্রভাব দেশের জ্বালানি খাতে দৃশ্যমান হওয়ায় প্রশাসন ব্যবস্থা নিয়েছে, যাতে কেউ অবৈধভাবে তেলের ব্যবসা করতে না পারে। প্রতিটি জেলায় এখন ভিজিলেন্স টিম গঠন করা হয়েছে, যারা জেলা প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে তেল কারবারে নজরদারি ও অভিযান পরিচালনা করবে।
বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের শুক্রবার প্রকাশিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, চট্টগ্রামের পতেঙ্গা এলাকায় বিশেষ অভিযানে প্রায় ৬ হাজার লিটার ডিজেল উদ্ধার করা হয়েছে। সকাল ১০টা ৪৫ মিনিটে চট্টগ্রামের পতেঙ্গা কমিশনার ঘাট এলাকায় জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে এই অভিযান পরিচালনা করেন নির্বাহী হাকিম সুব্রত হালদার। অভিযানে ৩০টি ড্রামে রাখা অবৈধ ডিজেল জব্দ করা হয়। যৌথভাবে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন (বিপিসি) এবং পুলিশ সদস্যরা অভিযান চালান। উদ্ধারকৃত তেল বর্তমানে পুলিশের হেফাজতে আছে।
মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এই ঘটনায় বিশেষ ক্ষমতা আইন, ১৯৭৪ অনুযায়ী নিয়মিত মামলা প্রক্রিয়াধীন। প্রাথমিক অনুসন্ধানে জানা গেছে, সমুদ্রগামী জাহাজ ও তেল ডিপো থেকে তেল পরিবহণের সময় এক অসাধু চক্র অবৈধভাবে তেল অপসারণ করে স্থানীয় বিক্রেতাদের কাছে সরবরাহ করে থাকে।
জ্বালানি খাতে শৃঙ্খলা বজায় রাখা, তেলের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা এবং অবৈধ মজুদ প্রতিরোধ করতে জেলা প্রশাসন কঠোর অবস্থানে রয়েছে। তেল ডিপো, পেট্রোল পাম্প ও সংশ্লিষ্ট তেল ব্যবসায়ীদের ওপর প্রশাসনের নজরদারি বাড়ানো হয়েছে এবং এই ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।
বিজ্ঞপ্তিতে দেশের বিভিন্ন জেলার জন্য পৃথক ভিজিলেন্স টিম ও যোগাযোগ নম্বর প্রকাশ করা হয়েছে। অধিকাংশ জেলায় অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট (এডিএম) টিমের আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। কিছু জেলায় অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সাধারণ) ও অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (এলএ) দায়িত্বে আছেন।
সরকারের এই উদ্যোগের ফলে জেলা পর্যায়ে অবৈধ তেল মজুদ, সরবরাহ ও পরিবহণ সংক্রান্ত অভিযোগ দ্রুত নেওয়া যাবে এবং তাৎক্ষণিক অভিযান পরিচালনার সুযোগ সৃষ্টি হবে বলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।









