মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা আরও জোরদার হয়েছে। অপারেশন ট্রু প্রমিজ ৪-এর ৮৪তম ধাপে ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড কোর (আইআরজিসি) সৌদি আরব ও কুয়েতে অবস্থিত মার্কিন-ইসরায়েলি সামরিক স্থাপনায় সরাসরি ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার দাবি করেছে। কুয়েতের এক সামরিক ঘাঁটিতে হামলায় কয়েকজন মার্কিন মেরিন সেনার নিহত হওয়ার খবরও তারা নিশ্চিত করেছে।
প্রেস টিভির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ওয়াশিংটনের জ্বালানি সরবরাহকারী যান ও তাদের লজিস্টিক বহর লক্ষ্যবস্তু হিসেবে ধ্বংস করা হয়েছে। আইআরজিসি এক বিবৃতিতে জানায়, “সন্ত্রাসী মার্কিন শাসনগোষ্ঠী আমাদের আঞ্চলিক বিমানঘাঁটিগুলো ব্যবহার করায় আমরা বিমান ও নৌবাহিনী যৌথভাবে বিশেষ মিসাইল ও ড্রোন অভিযান পরিচালনা করেছি।”
বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, “আমাদের বাহিনীর ক্ষেপণাস্ত্র শত্রুর প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ভেঙে আল-খারজ ঘাঁটিতে প্রবেশ করেছে। সেখানে অবস্থানরত জ্বালানি সরবরাহকারী যান এবং আকাশপথের সহায়তাকারী বিমান বহরের ওপর ব্যাপক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালানো হয়েছে। সরাসরি হামলার ফলে শত্রুর বেশ কয়েকটি বড় আকারের জ্বালানি সরবরাহকারী ও বিমান মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।”
অন্য এক বিবৃতিতে আইআরজিসি জানিয়েছে, কুয়েতের বুবিয়ান দ্বীপে মার্কিন-ইসরায়েলি ঘাঁটিগুলোকে লক্ষ্য করে নৌবাহিনী আকস্মিক ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে। এই অভিযানে উন্নত প্রযুক্তির বিভিন্ন ধরনের ড্রোন ও ব্যালিস্টিক মিসাইল ব্যবহার করে বিপুল সংখ্যক মার্কিন মেরিন সেনাকে হত্যা করা হয়েছে। আহতদের সালেহ আল-সাবাহ, মোহাম্মদ আল-আহমদ ও আলী আল-সালেম হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে এবং হাসপাতালগুলো কোয়ারেন্টাইনে রাখা হয়েছে। সাধারণ কুয়েতি রোগীদের ভর্তি বা ছাড়পত্রও বন্ধ করা হয়েছে যাতে শুধু আহত সেনাদের চিকিৎসা করা যায়, যা স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ ও প্রতিবাদ তৈরি করেছে।
ইরানি সশস্ত্র বাহিনী এ পর্যন্ত ইসরায়েলি সামরিক স্থাপনা ও পশ্চিম এশিয়ায় ছড়িয়ে থাকা মার্কিন ঘাঁটিগুলোকে লক্ষ্য করে উন্নত প্রযুক্তির অস্ত্র ব্যবহার করে ৮৩টি ধাপে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে। এই অভিযান গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরান ও ইসরায়েলি জোটের অতর্কিত হামলার জবাবে শুরু হয়। ওই হামলায় ইসলামি বিপ্লবের নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি, বেশ কয়েকজন উচ্চপদস্থ সামরিক কমান্ডার ও মিনাব শহরের ১৭০ জনের বেশি স্কুলশিক্ষার্থী নিহত হন।
লেবাননের হিজবুল্লাহ ও ইরাকের ইসলামিক রেজিস্ট্যান্সও যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের বিরুদ্ধে ফ্রন্টে যোগ দিয়েছে। আইআরজিসি ও প্রতিরোধ বাহিনীর যৌথ হামলায় শত্রুপক্ষের সামরিক ও কৌশলগত অবকাঠামোতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি ঘটেছে বলে দাবি করা হয়েছে।









