হঠাৎ স্বর্ণের দামে বড় পতন
প্রকাশ:

বিস্তারিত
দীর্ঘ সময় ধরে ঊর্ধ্বমুখী থাকার পর বিশ্ববাজারে সোনার দাম হঠাৎ বড় ধরনের পতন দেখিয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ইরান ইস্যুতে আক্রমণাত্মক মন্তব্যের পর বিনিয়োগকারীদের মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে। পাশাপাশি, মার্কিন কেন্দ্রীয় ব্যাংক ‘ফেডারেল রিজার্ভ’-এর সুদের হার কমানোর সম্ভাবনা কমে আসায় নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে সোনার আকর্ষণ হঠাৎ হ্রাস পেয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) বাংলাদেশ সময় বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে স্পট গোল্ডের দাম ২.৭ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৪,৬২২.৫৯ ডলারে নেমে আসে। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রে স্বর্ণ ফিউচার ৩.৪ শতাংশ কমে ৪,৬৪৯ ডলারে দাঁড়ায়।
দিনের শুরুতে সোনার দাম ১৯ মার্চের পর সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছিল, কিন্তু ট্রাম্পের ভাষণের পরপরই দাম ৪ শতাংশেরও বেশি পড়ে যায়। তবে সপ্তাহের হিসেবে সোনার দাম এখনও প্রায় তিন শতাংশ বৃদ্ধির দিকে আছে।
অন্য মূল্যবান ধাতুয়েও একই ধারা লক্ষ্য করা গেছে। এদিন স্পট সিলভার ৪.৯ শতাংশ কমে ৭১.৪৪ ডলারে, প্লাটিনাম ২.৩ শতাংশ কমে ১,৯১৮.৩৮ ডলারে, এবং প্যালাডিয়াম ০.৬ শতাংশ কমে ১,৪৬৩.৭৫ ডলারে অবস্থান করেছে।
ট্রাম্পের ইরান হামলার ঘোষণা আসায় তেলের দাম প্রায় সাত শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, তেলের দাম ও সোনার দামের মধ্যে নেতিবাচক সম্পর্ক লক্ষ্য করা যাচ্ছে।
নাটিক্সিসের বিশ্লেষক বার্নার্ড দাহদাহ বলেছেন, তেলের দাম ছয়-সাত শতাংশ বেড়ে যাওয়ায় মুদ্রাস্ফীতির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এর ফলে বিনিয়োগকারীরা মনে করছেন ফেডারেল রিজার্ভ এখনই সুদের হার কমাবে না। এই আশঙ্কাই সোনার দাম কমিয়েছে।
জেফরিজের মালিকানাধীন ট্রাডু ডটকমের জ্যেষ্ঠ বিশ্লেষক নিকোস জাবোরাস জানান, মার্কিন ডলার এখন নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে, যা সোনার দিকে মূলধন প্রবাহকে সীমিত করছে। তবে দীর্ঘমেয়াদি চাহিদার কারণে সোনা আবারও তার হারানো অবস্থান ফিরে পেতে পারে এবং ভবিষ্যতে নতুন রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছানোর সম্ভাবনা অস্বীকারযোগ্য নয়।
সূত্র: রয়টার্স








