ধর্ষণ ও ব্ল্যাকমেইলের অভিযোগে রাশেদুল ইসলাম রাব্বি (৩০) নামে এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে বাংলাদেশ পুলিশ। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর তথ্যমতে, রাব্বি পরিকল্পিতভাবে ফাঁদ পেতে তরুণীদের যৌন নিপীড়ন করতেন এবং সেই ঘটনার ভিডিও ধারণ করে পরে ব্ল্যাকমেইল করতেন।
বুধবার (১৫ এপ্রিল) দুপুরে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য তুলে ধরেন ডিএমপির ওয়ারী বিভাগের উপ-কমিশনার মল্লিক আহসান উদ্দিন সামী।
পুলিশ সূত্র জানিয়েছে, রাজধানীর মিরপুর এলাকার তরুণীদের লক্ষ্যবস্তু বানিয়ে তিনি কৌশলে তাদের যাত্রাবাড়ীর দনিয়া এলাকায় নিজের আস্তানায় নিয়ে যেতেন। সেখানে নিয়ে গিয়ে তাদের ধর্ষণ করা হতো এবং পুরো ঘটনাটি মোবাইল ফোনে ধারণ করা হতো। গত দুই মাসে অন্তত ১৩টি এমন ঘটনা ঘটিয়েছেন তিনি বলে জানিয়েছে পুলিশ। ভুক্তভোগীদের বয়স ১৮ থেকে ২০ বছরের মধ্যে।
তিনি জানান, সম্প্রতি যাত্রাবাড়ীর দনিয়া এলাকা থেকে রাশেদুলকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার স্থায়ী ঠিকানা মুন্সীগঞ্জের পুরান কামারগাঁ এলাকায় এবং তার বাবার নাম শাহজাহান মল্লিক।
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, রাব্বি ফেসবুকে ভুয়া আইডি খুলে নারী কণ্ঠে কথা বলতেন। প্রথমে একজন ভুক্তভোগীর মোবাইল ফোনের নিয়ন্ত্রণ কৌশলে নিজের হাতে নেন তিনি। এরপর সেই ফোনে থাকা সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্ট ও সিম ব্যবহার করে আবার নারী পরিচয়ে ভুক্তভোগীর বন্ধু তালিকার স্কুল ও কলেজপড়ুয়া মেয়েদের সঙ্গে যোগাযোগ করতেন।
পরবর্তীতে বন্ধুত্ব গড়ে তুলে উপহার দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে তাদের যাত্রাবাড়ীর গোয়ালবাড়ী মোড়ে একটি নির্মাণাধীন ভবনে নিয়ে যেতেন। সেখানে তাদের জোরপূর্বক ধর্ষণ করে ভিডিও ধারণ করতেন।
এরপর সেই ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে নিয়মিত অর্থ আদায় করতেন তিনি। শুরুতে একটি পর্নোগ্রাফি সংক্রান্ত অভিযোগের ভিত্তিতে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারের সময় তার কাছ থেকে পাঁচজন ভুক্তভোগীর পাঁচটি মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়। পরে তদন্তে আরও ১০টি নতুন অভিযোগের তথ্য পেয়েছে পুলিশ।









