ইরাকের পশ্চিমাঞ্চলে ইরান-সমর্থিত শিয়া মিলিশিয়াদের জোটের একটি সামরিক ঘাঁটিতে ভয়াবহ বিমান হামলার ঘটনা ঘটেছে। সন্দেহ করা হচ্ছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ বিমান হামলায় অন্তত ১৫ জন নিহত হয়েছেন।
মঙ্গলবার ভোরে সংঘটিত এই হামলার তথ্য নিশ্চিত করেছে ইরাক জয়েন্ট অপারেশনস কমান্ড। হামলার লক্ষ্য ছিল ইরান-সমর্থিত শিয়া মিলিশিয়াদের জোট পপুলার মোবিলাইজেশন ফোর্সেস (পিএমএফ)-এর একটি সামরিক সদর দপ্তর।
সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, ইরাকের পশ্চিমাঞ্চলের আনবার প্রদেশে অবস্থিত পিএমএফের একটি ঘাঁটিতে এই বিমান হামলা চালানো হয়।
পিএমএফ জানিয়েছে, এই হামলা ইরাকের সার্বভৌমত্বের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন এবং এটি আন্তর্জাতিক আইনের প্রতি অবজ্ঞা প্রদর্শনের শামিল। সংগঠনটির মতে, এটি ইরানের অন্যতম আঞ্চলিক মিত্রদের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক পদক্ষেপের নতুন মাত্রা যোগ করেছে।
পিএমএফের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, হামলায় তাদের প্রাদেশিক অপারেশনস কমান্ডার সাদ দুয়াই আল-বাইজি নিহত হয়েছেন।
সংগঠনটি এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, “শহীদদের রক্ত বৃথা যাবে না।” একই সঙ্গে তারা ইরাকের রাজনৈতিক নেতৃত্বকে এই হামলার জবাব দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।
পপুলার মোবিলাইজেশন ফোর্সেস মূলত ইরাকের শিয়া মিলিশিয়াদের একটি জোট, যা ২০১৪ সালে উগ্র জঙ্গিগোষ্ঠী আইএসআইএস-এর বিরুদ্ধে লড়াইয়ের জন্য গঠিত হয়েছিল।
সে সময় ইরাকের শীর্ষ শিয়া ধর্মীয় নেতা গ্র্যান্ড আয়াতুল্লাহ আলি আল-সিস্তানি সাধারণ জনগণকে সংগঠিত হয়ে জঙ্গিদের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছিলেন।
পরবর্তীতে এই বাহিনীকে ইরাকের রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা কাঠামোর অংশ হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। তবে এর কিছু অংশের সঙ্গে ইরানের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে বলে দীর্ঘদিন ধরে অভিযোগ রয়েছে।
এর আগে যুক্তরাষ্ট্র ইরাক ও সিরিয়ায় অবস্থানরত মার্কিন বাহিনীর ওপর হামলার অভিযোগে পিএমএফের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কিছু গোষ্ঠীর ওপর সামরিক হামলা চালিয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, সর্বশেষ এই হামলা মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনাকে আরও বাড়িয়ে দিতে পারে।









