‘৭১-এর মুক্তিযুদ্ধ ছিল জনযুদ্ধ, শহীদ জিয়াউর রহমান অনিবার্য চরিত্র’ – বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান
মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষে রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে আয়োজিত আলোচনা সভায় বিএনপি চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ কোনো দল বা ব্যক্তির নয়, এটি ছিল সর্বস্তরের মানুষের সম্মিলিত জনযুদ্ধ। তিনি আরও উল্লেখ করেন, বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের ক্ষেত্রে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান একজন অনিবার্য চরিত্র।
তিনি বলেন, অতীতে শহীদ জিয়ার অবদানকে নানা ভাবে খাটো করার চেষ্টা করা হয়েছে। তাই মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসকে ছোট করার কোনো আলোচনা-সমালোচনা গ্রহণযোগ্য নয়। সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে তার বক্তব্যে তিনি বলেন, ‘অতীত ভুলে যাওয়া বা অতীত নিয়ে অতিরিক্ত চর্চা উভয়ই ভবিষ্যতের জন্য বাধা সৃষ্টি করে। তবে মুক্তিযুদ্ধ ও স্বাধীনতার গৌরবগাথা নিয়ে আলোচনা অবশ্যই প্রয়োজন।’
সভায় সভাপতিত্ব করেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। বক্তব্য দেন বিএনপি জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ড. আবদুল মঈন খান, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা নজরুল ইসলাম খান, অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, অধ্যাপক ড. মাহবুব উল্লাহসহ দলের সিনিয়র নেতা ও বিশিষ্টজন।
সভায় শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান, সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া এবং মুক্তিযুদ্ধে আত্মোৎসর্গকারী শহীদদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করে মোনাজাত করা হয়।
চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেন, ১৯৭২ সালের ২৬ মার্চ শহীদ জিয়ার লেখা ‘একটি জাতির জন্ম’ প্রবন্ধ প্রকাশিত হয়, যা প্রমাণ করে শহীদ জিয়া দেশের মুক্তিযুদ্ধের এক অনবদ্য চরিত্র ছিলেন। তিনি বলেন, শহীদ জিয়া স্বাধীনতার চিন্তাধারা মনের মধ্যে লালন করতেন, যা তার লেখনী থেকে পরিষ্কারভাবে বোঝা যায়।
তিনি আরও বলেন, স্বাধীনতা দিবসে আমাদের লক্ষ্য হওয়া উচিত সমাজের সব শ্রেণি-পেশার মানুষকে নিয়ে দেশের উন্নয়নে একসঙ্গে কাজ করা। তিনি সরকারের নানা উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডের উল্লেখ করে বলেন, নির্বাচিত গণতান্ত্রিক সরকার জনগণের জীবনমান উন্নয়নে অক্লান্ত পরিশ্রম করছে।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, ‘১৯৭১ সালে লক্ষ প্রাণের বিনিময়ে আমরা স্বাধীনতা অর্জন করেছি, ২০২৪ সালে প্রতিরোধ গড়ে স্বাধীনতা রক্ষা করেছি। শহীদ ও সংগ্রামীদের আকাঙ্ক্ষা ছিল সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও সামাজিক ন্যায়বিচারভিত্তিক একটি স্বাধীন গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা। সেই লক্ষ্য অর্জন হোক আমাদের অঙ্গীকার।’









