রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে যাত্রীবাহী বাস পদ্মা নদীতে পড়ে যাওয়ার মর্মান্তিক ঘটনার পর নড়েচড়ে বসেছে সরকার। দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ অনুসন্ধান এবং দায়ী ব্যক্তিদের শনাক্ত করতে ৬ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়।
বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) মন্ত্রণালয়ের টিএ শাখা থেকে জারি করা এক আদেশে এই তদন্ত কমিটি গঠনের বিষয়টি জানানো হয়।
আদেশে বলা হয়েছে, গত ২৫ মার্চ দৌলতদিয়া ঘাটে ফেরিতে ওঠার সময় পন্টুন থেকে একটি যাত্রীবাহী বাস পদ্মা নদীতে পড়ে যায়, এতে হতাহতের ঘটনা ঘটে। দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধান এবং এর সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করার লক্ষ্যে এই তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।
তদন্ত কমিটির আহ্বায়ক করা হয়েছে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মো. মহিদুল ইসলামকে।
কমিটির অন্যান্য সদস্যদের মধ্যে রয়েছেন— রাজবাড়ী জেলা প্রশাসকের একজন প্রতিনিধি, নৌ পুলিশের একজন প্রতিনিধি, বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ), বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্পোরেশন (বিআইডব্লিউটিসি) এবং ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তরের একজন করে প্রতিনিধি।
তদন্ত কমিটির কার্যপরিধিতে বলা হয়েছে, দুর্ঘটনার বিস্তারিত কারণ অনুসন্ধান করে দায়ী ব্যক্তিদের শনাক্ত করতে হবে। প্রয়োজনে কমিটি অতিরিক্ত সদস্য কো-অপ্ট করতে পারবে। এছাড়া আগামী তিন কার্যদিবসের মধ্যে মন্ত্রণালয়ে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।
প্রসঙ্গত, গত বুধবার কুষ্টিয়ার কুমারখালি থেকে আসা ‘সৌভাগ্য পরিবহন’-এর একটি যাত্রীবাহী বাস বিকেল ৫টা ২০ মিনিটে দৌলতদিয়া ৩ নম্বর ফেরিঘাটে ফেরিতে ওঠার সময় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সরাসরি পদ্মা নদীতে পড়ে যায়।
ঘটনার খবর পাওয়ার পর বিকেল ৫টা ৪০ মিনিটের মধ্যেই বিআইডব্লিউটিএ’র উদ্ধারকারী জাহাজ ‘হামজা’ এবং ডুবুরি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান শুরু করে। প্রতিকূল আবহাওয়া ও ঝড়ো পরিস্থিতির কারণে উদ্ধারকাজ কিছুটা ব্যাহত হলেও শেষ পর্যন্ত বাসটি নদী থেকে তোলা সম্ভব হয়।
ফায়ার সার্ভিসের তথ্য অনুযায়ী, এ পর্যন্ত মোট ২৬ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।
এদিকে, ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত নিশ্চিত করতে রাজবাড়ী জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকেও পৃথক একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।









