ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শহীদ শরিফ ওসমান হাদি—এক নাম যা আজ বাংলাদেশের তরুণ সমাজের হৃদয়ে চির অমর হয়ে আছে। আধিপত্যবিরোধী আন্দোলনের সম্মুখ সারিতে যিনি ছিলেন অবিসংবাদিত নেতা, আলেম ও শিক্ষাবিদ পরিবারে জন্ম নেওয়া এই যুবনেতা ছোটবেলা থেকেই কুরআন ও হাদিসের শিক্ষায় নিজেকে গড়েছেন আদর্শ ও নৈতিকতার মাটিতে। জীবন যুদ্ধে সত্য, ন্যায় ও স্বাধীনতার জন্য যে মনোবল দেখিয়েছিলেন, দুর্বৃত্তদের গুলিতে মৃত্যুর মধ্যেও সেই সাহস অম্লান রইল—শহীদ হিসেবে তিনি ইতিহাসের পাতায় লেখা হলেন চিরন্তন শ্রদ্ধার নাম।
ছয় ভাইবোনের পরিবারে প্রায় সবাই ধর্ম ও শিক্ষার সঙ্গে সম্পৃক্ত। শিক্ষাজীবনে ঝালকাঠির এনএস কামিল মাদ্রাসা থেকে পঞ্চম শ্রেণি থেকে আলিম পর্যন্ত পড়াশোনা করেছেন ওসমান হাদি। পরবর্তীতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগে ভর্তি হয়ে ২০১০–১১ শিক্ষাবর্ষে অধ্যয়ন করেন।
জীবিকার তাগিদে পড়াশোনার পাশাপাশি প্রাইভেট পড়ানোর মাধ্যমে নিজের দায়িত্ব পালন করেন। পরবর্তীতে তিনি একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকের দায়িত্বও পালন করেন।
ওসমান হাদির পরিবারও শিক্ষাজীবন ও দ্বীনি শিক্ষায় সম্পৃক্ত। বাবা মাওলানা আবদুল হাদি ছিলেন মাদ্রাসা শিক্ষক, বড় ভাই মাওলানা আবু বকর ছিদ্দিক বরিশালের একটি জামে মসজিদের ইমাম ও খতিব, মেজ ভাই মাওলানা ওমর ফারুক ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত। তিন বোনের স্বামীরাও শিক্ষকতা ও দ্বীনি শিক্ষার সঙ্গে নিবিড়ভাবে জড়িত।
দুর্ভাগ্যবশত, ১২ ডিসেম্বর ঢাকার পুরানা পল্টনের বক্স-কালভার্ট রোডে দুর্বৃত্তদের গুলিতে গুরুতর আহত হন শহীদ শরিফ ওসমান হাদি। প্রথমে তাকে ঢাকার বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়, পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য ১৫ ডিসেম্বর এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে সিঙ্গাপুরে নেওয়া হলেও, গত বৃহস্পতিবার রাতেই তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।
শনিবার (২০ ডিসেম্বর) বিকেল সাড়ে ৩টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের পাশে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের সমাধির পাশে তাকে দাফন করা হয়।
এর আগে জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় অনুষ্ঠিত জানাজায় সারা দেশ থেকে রাজনৈতিক নেতা, সাধারণ মানুষ এবং ছাত্রসমাজ—লাখো মানুষের আবেগঘন উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়। জানাজায় ইমামতি করেন তার বড় ভাই মাওলানা আবু বকর ছিদ্দিক।
শহীদ ওসমান হাদি আজ আমাদের হৃদয়ে, আমাদের আন্দোলনে, আমাদের ইতিহাসে অমর। তার সাহস, ত্যাগ, নেতৃত্ব এবং আদর্শ আমাদের অনুপ্রাণিত করবে চিরকাল।









