যুক্তরাষ্ট্রের আরোপিত নৌ অবরোধের চাপ মোকাবিলায় কৌশলগত পরিবর্তনের পথে হাঁটছে ইরান। সমুদ্রপথে পণ্য পরিবহনে প্রতিবন্ধকতা তৈরি হওয়ায় এবার তেহরান স্থলপথে প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে সীমান্ত বাণিজ্য জোরদারের উদ্যোগ নিয়েছে।
সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, ইরানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ইস্কান্দার মোমেনি সীমান্তবর্তী প্রদেশগুলোর গভর্নরদের উদ্দেশে নির্দেশনা দিয়েছেন যাতে আমদানি ও রফতানি কার্যক্রম কোনোভাবেই ব্যাহত না হয়। বিশেষ করে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের সরবরাহ এবং দেশীয় উৎপাদিত পণ্যের রফতানি অব্যাহত রাখতে সীমান্ত বাণিজ্য আরও শক্তিশালী করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
ইরান সরকারের ওয়েব পোর্টালে প্রকাশিত এক নথিতে বলা হয়েছে, শত্রুপক্ষের হুমকি ও চাপ মোকাবিলায় জনগণের জীবনযাত্রা স্বাভাবিক রাখতে সীমান্ত বাণিজ্যকে কার্যকরভাবে ব্যবহার করতে হবে। এজন্য জাতীয় ও আঞ্চলিক পর্যায়ের সব সম্পদ কাজে লাগানোর পাশাপাশি সীমান্ত এলাকার সমবায় সমিতি এবং জনকল্যাণমূলক সংস্থাগুলোর সঙ্গে সমন্বয় বাড়ানোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথভাবে হামলা চালালে উত্তেজনা চরমে পৌঁছে যায়। এর জবাবে তেহরানও মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত মার্কিন স্বার্থসংশ্লিষ্ট স্থাপনা ও সামরিক ঘাঁটিগুলোতে ধারাবাহিক হামলা শুরু করে। ফলে পুরো অঞ্চল অস্থির হয়ে ওঠে। একই সময় ইরান হরমুজ প্রণালী বন্ধ করে দিলে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহে বড় ধরনের সংকট তৈরি হয়, কারণ এই পথ দিয়ে বিশ্বের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ জ্বালানি পরিবাহিত হয়।
প্রায় ৩৯ দিনের টানা সংঘাতের পর গত ৮ এপ্রিল দুই সপ্তাহের জন্য সাময়িক যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করে যুক্তরাষ্ট্র। পরবর্তীতে ১১ এপ্রিল পাকিস্তানের ইসলামাবাদে দুই দেশের মধ্যে শান্তি আলোচনা অনুষ্ঠিত হলেও গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি বিষয়ে মতবিরোধের কারণে স্থায়ী সমঝোতা হয়নি। এর পরিপ্রেক্ষিতে ১৩ এপ্রিল থেকে ইরানের ওপর নৌ অবরোধ আরোপ করে যুক্তরাষ্ট্র, যা নতুন করে উত্তেজনা বাড়িয়েছে।
সূত্র: তাস









