বাড়তি মানুষ ও যানবাহনের চাপে ন্যুজ হয়ে পড়া রাজধানী ঢাকা যেন একটু হাঁফ ছেড়েছে ঈদের ছুটিতে; কোলাহলবিহীন সড়ক ও অফিস-কারখানা বন্ধের সঙ্গে বৃষ্টির পরশে দূষণ কমে স্বস্তিতে শ্বাস নেওয়ার সুযোগ মিলেছে।
প্রিয়জন ও পরিবারের সঙ্গে ঈদ করতে এবার ছুটির শুরুতে দৈনিক গড়ে ১৫ থেকে ২০ লাখ মানুষের রাজধানী ছাড়ার তথ্য দিয়েছিল ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)।
ঈদের দিন পর্যন্ত তা কোটি হয়ে যায় বলে ধারণা সংস্থাটির।
দীর্ঘ ছুটিতে বাড়ি ফেরা ও বিভিন্ন পর্যটন শহরগুলোতে ঈদ করতে যাওয়ায় দুই কোটির বেশি মানুষের এ নগরী এখন ফাঁকা।
এতে মানুষের সঙ্গে যান চলাচল সর্বনিম্নে চলে যাওয়ায় বায়ু দূষণের সঙ্গে কমেছে শব্দ দূষণও। স্বাভাবিক কোলাহলমুক্ত পরিবেশে ঢাকার সড়কগুলোতে চলাচলে নেই কান ঝালাপাড়া করা হর্নের শব্দ।
পরিবেশ দূষণ কম হওয়ায় উন্নীত হয়েছে ঢাকার বায়ুমানের।
আন্তর্জাতিক বায়ুমান প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান আইকিউএয়ারের এয়ার কোয়ালিটি ইনডেক্স (একিউআই) বলছে, রোববার ঢাকার বাতাস ছিল ‘গ্রহণযোগ্য স্বাস্থ্যকর’ পর্যায়ে।
এদিন বেলা পৌনে ১২টায় একিউআই স্কোর ছিল ৮১। এ সময়ে পল্টনে ৮৩, সাভার ৮৪, আজিমপুর ৮৮ ও টুঙ্গিতে বায়ুমানের স্কোর ছিল ৯২।
আইকিউ এয়ারের মানদণ্ড অনুযায়ী, স্কোর ৫১ থেকে ১০০ হলে তাকে 'মাঝারি' বা 'গ্রহণযোগ্য' মানের বায়ু হিসেবে ধরা হয়।
তা বেড়ে ১০১ থেকে ১৫০ স্কোর হলে 'সংবেদনশীল গোষ্ঠীর জন্য অস্বাস্থ্যকর', ১৫১ থেকে ২০০ হলে তা 'অস্বাস্থ্যকর' এবং ২০১ থেকে ৩০০ হলে তাকে 'খুবই অস্বাস্থ্যকর' বলা হয়। ৩০১ এর চেয়ে বেশি স্কোর হলে তাকে 'বিপজ্জনক' বা 'দুর্যোগপূর্ণ' বলে বিবেচনা করা হয়।
দীর্ঘকাল ধরেই ঢাকার বায়ুমান বেশিরভাগ সময়ে দূষিত থাকে। আবহাওয়া অনুযায়ী, শীতকালে এই দূষণ চরম আকার ধারণ করে, তবে বর্ষাকালে পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হয়।
রবিবার বিকেল বেলায় বিভিন্ন স্থানে দর্শনার্থীদের চলাচল বেড়ে যাওয়ায় একিউআইও খানিকটা বেড়ে যায়।
বায়ুমান তাৎক্ষণিকভাবে প্রকাশ করে বাংলাদেশের পরিবেশ অধিদপ্তর। সংস্থাটির তথ্য অনুযায়ী, রোববার সন্ধ্যা ৭টায় তা ছিল ১১৭।
ঢাকার বাইরে যানবাহন বেশি চলাচল করায় সারাদেশে সবচেয়ে স্কোর বেশি ছিল রাজশাহীতে ১২৫। এছাড়া ওই সময়ে কুমিল্লায় ছিল ১১২, চট্টগ্রামের আগ্রাবাদে ৭৫, সিলেটে ৭০, ময়মনসিংহে ৮১, নরসিংদি ৬৫ ও সাভারে ৩১।
পরিবেশ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ঈদের ছুটির আগের সপ্তাহে ঢাকার বায়ুর একিউআই স্কোর ছিল গড়ে ১০৯ থেকে ১৫৪।
বাতাসের মান নির্ভর করে ভাসমান সূক্ষ্ম ধূলিকণার পরিমাণ (পার্টিকুলেট ম্যাটার বা পিএম-১০) এবং অতি সূক্ষ্ম ধূলিকণার পরিমাণের (পিএম ২.৫) ওপর, যা পরিমাপ করা হয় প্রতি ঘনমিটারে মাইক্রোগ্রাম (পার্টস পার মিলিয়ন-পিপিএম) এককে।
দূষণের মাত্রা বুঝতে পিএম ২.৫, পিএম ১০ ছাড়াও সালফার ডাই অক্সাইড, কার্বন মনো-অক্সাইড, নাইট্রোজেন ডাই-অক্সাইড ও গ্রাউন্ড লেভেল ওজোনে সৃষ্ট বায়ুদূষণ বিবেচনা করে তৈরি করা হয় এয়ার কোয়ালিটি ইনডেক্স বা একিউআই।
বায়ুমান বিশেষজ্ঞ ও পরিবেশ অধিদপ্তারের অতিরিক্ত মহাপরিচালক জিয়াউল হক গণমাধ্যমকে বলেন, ‘‘বৃষ্টিতে বাতাসের মান ভালো হয়ে যায়। সুক্ষকণাগুলো বৃষ্টির পানিতে নিচে নেমে যায়। ইটভাটাগুলো তখন বন্ধ হযে যায়, ময়লা পোড়ানো যায় না, তাই বাতাসের মান ভালো হয়ে যায়।
অন্য দেশ থেকেও দুষিত বাতাস আসে কম। দক্ষিণের বঙ্গোপসাগর থেকে তখন বাতাস আসায় ভালো বাতাসটা আসে।









