বিএনপির চেয়ারপার্সন ও তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া আজ ৩০ ডিসেম্বর না ফেরার দেশে চলে গেছেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। বাংলাদেশের রাজনীতিতে গণতন্ত্রের জন্য তাঁর সংগ্রাম এবং আপসহীন নেতৃত্বের কারণে তিনি দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে অমর হয়ে আছেন।
সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের মৃত্যুর পর ১৯৮২ সালে বিএনপির নেতৃত্ব গ্রহণ করেন খালেদা জিয়া। তখন দেশে জেনারেল এরশাদের সামরিক শাসন চলছিল। নয় বছরের দীর্ঘ আন্দোলনের মধ্য দিয়ে তিনি নিজের রাজনৈতিক অবস্থান এবং দলের অবস্থান দৃঢ় করেন।
১৯৮৩ সালে বিএনপির নেতৃত্বে সাত দলীয় ঐক্যজোট গঠন করে তিনি এরশাদের শাসনের বিরুদ্ধে রাজপথে আন্দোলনে নেমেছিলেন। এই আন্দোলনের সময় তিনবার গ্রেপ্তার হন তিনি। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করেন, এই আন্দোলনের মাধ্যমে খালেদা জিয়া বিএনপিকে পুনরুজ্জীবিত করেছেন এবং গণতন্ত্রের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন।
এরশাদ সরকারের পতনের পর ১৯৯১ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারি সব দলের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে ক্ষমতায় আসে বিএনপি, নেতৃত্বে ছিলেন খালেদা জিয়া। নির্বাচনে তিনি পাঁচটি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে সবকটিতে জয়ী হন এবং দেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে ইতিহাস গড়েন।
নির্বাচনের আগে তিনটি জোটের মধ্যে সংসদীয় সরকার ব্যবস্থা পুনঃপ্রবর্তনের অঙ্গীকার ছিল। নির্বাচনের পর গঠিত পঞ্চম সংসদে সংসদ নেতা হিসেবে খালেদা জিয়া রাষ্ট্রপতি শাসিত সরকারকে সংসদীয় ব্যবস্থায় রূপান্তরের জন্য বিল উত্থাপন করেন। ঐকমত্যে পাশ হওয়া এই বিলের মাধ্যমে দীর্ঘ ১৬ বছর পর দেশে সংসদীয় সরকার ব্যবস্থা পুনরায় চালু হয়।
খালেদা জিয়ার সাহসী নেতৃত্ব, রাজনৈতিক দৃঢ়তা এবং গণতান্ত্রিক সংগ্রাম বাংলাদেশের ইতিহাসে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে।









