ক্রমবর্ধমান বায়ুদূষণ ভীতিকর পরিস্থিতি সৃষ্টি করছে। দূষিত বাতাসের মহানগরী হিসেবে নেতিবাচক তকমা বয়ে চলেছে রাজধানী ঢাকা। বায়ুমণ্ডলে ক্ষতিকর গ্যাস, ধূলিকণা, ধোঁয়া মিশে মানুষের স্বাস্থ্যহানি এবং পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট করছে। আর এর প্রধান উৎসগুলোর মধ্যে রয়েছে যানবাহনের ধোঁয়া, কারখানার বর্জ্য, কয়লা পোড়ানো এবং বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় গলদ। দূষিত বাতাস সরাসরি আঘাত করছে প্রাণীদের ফুসফুস ও হৃৎপিণ্ডে। মানুষের স্বাস্থ্যক্ষতির দিকটা
বিবেচনা করা হলেও, পশু-প্রাণীদের আয়ুক্ষয়ের বিষয়টি অচর্চায় উপেক্ষিতই থেকে যাচ্ছে। দূষিত বাতাসের খেতাব ঢাকার নতুন নয়। ২০২৫-এও ছিল বিশ্বের দ্বিতীয় দূষিত বাতাসের মহানগরী। দুশ্চিন্তার কারণ হচ্ছে, বায়ুদূষণে অনেকটা নীরবেই ঢাকাকে ছাড়িয়ে যাচ্ছে দেশের আরও কিছু শহর।
আন্তর্জাতিক নজরদারির বাইরে থাকায় এগুলোর খবর সামনে আসছে না। এর কিছু ঢাকার আশপাশেই; কিছু উত্তরবঙ্গ বা সীমান্ত এলাকায়। সম্প্রতি পরিবেশ অধিদপ্তর বায়ুমান পরীক্ষা কার্যক্রম সম্প্রসারণ করায় বিষয়টি সামনে আসতে শুরু করেছে। এ মাসের ২ থেকে ৮ তারিখ পর্যন্ত সাত দিনের তথ্য পর্যালোচনায় দেখা গেছে, চট্টগ্রাম, গাজীপুর, রাজশাহী, সাভার, ময়মনসিংহ, বগুড়া, টঙ্গী-অধিকাংশ দিনই বায়ুদূষণে ঢাকাকে ছাড়িয়ে গেছে। এই সময়ের বায়ুমান সূচকে দেখা যায়, বগুড়া এখন দেশের সবচেয়ে দূষিত শহর। বায়ুমান সূচক ১০১ থেকে ১৫০-এর মধ্যে থাকলে স্পর্শকাতর জনগোষ্ঠীর জন্য অস্বাস্থ্যকর বিবেচিত হয়।
১৫০ পার হলে সবার জন্য হানিকর। এ হিসাবে দেশের বিভিন্ন এলাকায় অনেক মানুষই বসবাস করছেন উদ্বেগজন মাত্রায় অস্বাস্থ্যকর বাতাসের মধ্যে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বায়ুমান পরীক্ষা কার্যক্রমের অধিকাংশই ঢাকাকেন্দ্রিক ছিল। ক্রমে সারা দেশে এ কার্যক্রম সম্প্রসারণ শুরু হওয়ায় প্রকৃত চিত্র স্পষ্ট হবে। তাতে বায়ুদূষণের কারণগুলো চিহ্নিত করাও সহজ হবে। দূষণ কমানো এবং স্বাস্থ্য খাত নিয়ে কর্মপরিকল্পনা গ্রহণের সঠিক পথনির্দেশনা পাওয়া যাবে। যেটা খুব প্রয়োজন। গবেষণায় উঠে এসেছে বাংলাদেশের বায়ুদূষণের প্রায় ৩৫ শতাংশ কারণ আন্তঃসীমান্ত দূষণ।
এটা মোকাবিলায় আঞ্চলিক বোঝাপড়া জোরদার করা চাই। দেশের ভিতরেও লাগসই ব্যবস্থা নিতে হবে। প্রতি শ্বাসে আয়ুক্ষয় দুর্ভাগ্যজনক। এর প্রতিকারে যা কিছুই প্রয়োজন, করুক সরকার। ব্যাপক বনায়ন, কলকারখানা ও যানবাহনের ধোঁয়া নির্গমন নিয়ন্ত্রণ এবং বাইরে বেরোনোমাত্রই মাস্ক পরার অভ্যাস গড়ে তোলা এ ক্ষেত্রে সুরক্ষার সুফল বয়ে আনতে সহায়ক হতে পারে।
সূত্র: বাংলাদেশ প্রতিদিন









